• নোট ছুঁতেই হাতে ‘দুর্নীতির রং’, জামবনিতে দুর্নীতি দমন শাখার ফাঁদে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার
    প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • নোটের গায়ে পাউডার। আর সেই নোট ছুঁয়ে জলে হাত ডোবাতেই বদলে গেল রং। জামবনিতে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার জালে গিধনি বিডিও অফিসের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। বিডিও অফিসে বসেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    জানা গিয়েছে, গিধনিতে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির বরাদ পেয়েছিলেন এলাকার ঠিকাদার পিন্টু মল্লিক। সেই কাজের টাকার বিল চাইতে গিয়েছিলেন বিমল সাহার কাছে। জানা গিয়েছে, পিন্টুর কাছে তিনি ২ লক্ষ টাকা ঘুষ চান। এরপর পিন্টু বিষয়টি দুর্নীতি দমন শাখার টোল ফ্রি নম্বরে জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই টাকা বিমলকে দিতে আসেন পিন্টু। জানা গিয়েছে, সেই সময় সেখানে আগে থেকে ফাঁদ পেতে ছিলেন এসিবির লোকজনেরা। আর বিমল সাহা টাকা নেওয়ার সময়ই হাতেনাতে ধরা পড়েন। এরপর তাকে অফিসে বসিয়ে রেখে চলে টানা জিজ্ঞাসাবাদ। তার কাছে থাকা বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হয়। জানা গিয়েছে, মাসছয়েক আগে বিমল জামবনি ব্লকের গিধনি বিডিও অফিসে বদলি হয়ে এসেছেন। তার বাড়ি বোলপুরে। তাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লক্ষ টাকা। যদিও এই বিষয় নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কোন আধিকারিক কিছু মন্তব্য করতে চাননি।

    এদিকে, ঘুষ বন্ধ করতে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা হেল্পলাইন চালু করেছে। কোনও সরকারি কর্মচারী ঘুষ চাইলেই সেই হেল্পলাইনে ফোন করার জন‌্য আবেদন জানাচ্ছে রাজ‌্য সরকার। সম্প্রতি এই শাখার আইজির পদে যোগ দিয়েছেন পুলিশকর্তা মুরলিধর শর্মা। রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। হেল্পলাইন নম্বরটি হল ৯৮৩৬২৩৩৮৯১। বৃহস্পতিবার এসিবি বা দুর্নীতি দমন শাখার পক্ষে সোশাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, যদি কোনও সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঘুষ দাবি করেন বা ঘুষ চান, তিনি কাউকে টাকা চেয়ে হুমকি দেন বা জোর করে টাকা আদায় করেন, সঙ্গে সঙ্গেই যেন হেল্পলাইনে ফোন করে জানানো হয়। এছাড়া কারও কাছে দুর্নীতি সংক্রান্ত কার্যকলাপের ব‌্যাপারে কোনও তথ‌্য থাকে, সঙ্গে সঙ্গেই রিপোর্ট করার আবেদন জানানো হয়েছে। জনসেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন শাখা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)