• আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সর্বদলীয় বৈঠক চান রাহুল, ‘ভদ্রতা করছি’, কড়া বার্তা কেন্দ্রের
    প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • আগামী সপ্তাহেই ফরেন‌ কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে মরিয়ে মোদি সরকার। বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সংসদে বিরোধীদের একটানা বিক্ষোভ। অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে কথা বলছেন শাসক দলের নেতারা। বুধবার রাহুল গাঁধীর সঙ্গে দেখা করেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। যদিও লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে মন্ত্রীর এক ঘণ্টার বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি বলেই জানা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের খবর, শাসক দলের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ভদ্রতার খাতিরেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। কারণ সংখ্যা রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। কার্যত বিরোধী আপত্তি উড়িয়ে জোড়া বিল পাশ করিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে শাসক দলের তরফে।

    সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। আবারও জোড়া বিল পাশ করানোর বিষয়ে সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে কংগ্রেস নেতা সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ দেন। পালটা রিজিজু জানান, সদার্থক মনোভাব থাকলে বৈঠক ডাকা যেতেই পারি। না শোনার জন্য ডাকা হবে না। এইসঙ্গে কেন্দ্রের বার্তা, ভদ্রতার খাতিরেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। কারণ যথেষ্ট সংখ্যা রয়েছে শাসক জোটের কাছে। ইতিমধ্যে সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং এনসিপির সঙ্গে কথা হয়ে রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সংসদে বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে মার্শাল দিয়ে তাঁদের কক্ষের বাইরে বের করে বিল পাশ করিয়ে নেওয়া হবে কি?

    উল্লেখ্য, আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের জন্য প্রয়োজন সংবিধান সংশোধনী। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কাজ হবে না, চাই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। ইতিমধ্যেই একবার ব্যর্থ হয়েছে এই বিল পাশের প্রচেষ্টা। আবারও সেটা হোক, মোটেই চাইছে না মোদি সরকার। তাই পাঁচ বিধানসভায় ভোট মেটার পর থেকেই একাধিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিজেপি। তাদের অনেকেই আশ্বাস দিয়েছে, এবার তারা সমর্থন করবে আসন পুনর্বিন্যাস বিলে। আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে তৃণমূল এবং ডিএমকে’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংবিধান সংশোধনীতে সমর্থন আদায়ের জন্য।

    কিন্তু ফরেন‌ কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬ নিয়ে বেঁকে বসেছে মূলত দক্ষিণের রাজনৈতিক দলগুলি। সূত্রের খবর, ডিএমকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, এনসিপি (শরদ)-এই দলগুলি এফসিআরএ বিল নিয়ে বেশ চিন্তিত। একই ছবি উত্তরপূর্বে বিজেপির শরিকদের মধ্যেও। তাদের আশঙ্কা, এই বিলের পক্ষে ভোট দিলে ভাঙন ধরতে পারে ভোটব্যাঙ্কে। সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব রয়েছে সেটা একটু নমনীয় করতে চায় এই দলগুলি, এমনটাই সূত্রের খবর। এনসিপি (শরদ) বলছে, সমস্ত দাতাদের সন্দেহ করা উচিত নয়। যদিও নেতিবাচক পরিস্থিতি বদলেছে বলেই দাবি শাসক দলের। সময়ই উত্তর দেবে।  
  • Link to this news (প্রতিদিন)