রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বিরোধী দলনেতা, বড় দাবি করতেই যাবেন নবান্নে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিদ্রোহ করে নতুন তৃণমূল তকমা নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক আছেন। বিধানসভায় তেমন কোনও বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কদের এবং খোদ বিরোধী দলনেতাকে। বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রেখেই তাঁরা চলছেন বিধানসভায়। তবে এবার বড় দাবি নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর শিবিরের বিধায়করা।
এদিকে রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিধায়ক নবান্নে যাবেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কারণ হিসাবে জানানো হয়েছে, এসআইআরের পরে বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে ২৭ লক্ষের নাম। সেইসব ভোটারের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এই দাবি নিয়ে তাঁরা যাবেন। ঋতব্রতরা শেষবার নবান্নে গিয়েছিলেন জুন মাসের ৩ তারিখ। মুখ্যমন্ত্রীর তখন ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে তাঁরা গিয়েছিলেন। এবার আবার যাবেন তাঁরা দাবি নিয়ে।
অন্যদিকে পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, দলত্যাগের আইনি বিচার অথবা প্রতীকের লড়াইয়ে মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত এবং নিয়ন্ত্রণই শেষ কথা। শিবসেনার ভাঙন এবং প্রতীক দখল বিষয়ক মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন স্পষ্ট জানান, আইন অনুসারে পরিষদীয় দলের চেয়ে মূল সংগঠনের হাতই বেশি শক্ত। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সর্বভারতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বাংলায় ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত-শিবিরে’র আইনি লড়াইয়ে নতুন পথের জন্ম দিল। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
তাছাড়া কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ, ঋতব্রত শিবির বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। ঋতব্রতদের দাবি, তাঁরা গঠনমূলক এবং ইতিবাচক বিরোধী পক্ষ হিসেবে কাজ করছেন। আর আখরুজ্জামান এই বিষয়ে জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নিয়ে কথা বলার জন্য ১০ দিন আগেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সময় দিয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রতি জেলায় ট্রাইবুনাল চালু করার দাবি তাঁরা জানাবেন। তিনি বলেন, ‘বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা প্রত্যেকটি ভোটারের নাম যাতে ভোটার তালিকায় ওঠে সেটা সুনিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।’ যদিও প্রত্যেকটি জেলায় ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি তুলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন এনসিপিআই সাংসদ ইউসুফ পঠান। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।