• ছিলেন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে, এবার কাকলির পাশে বসে রাজীব কুমার! তুঙ্গে জল্পনা
    প্রতিদিন | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • যত সময় এগোচ্ছে, ততই যেন একা হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজীব কুমারের দলত্যাগের জল্পনা তুঙ্গে। মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমারকে (Rajeev Kumar) অবসর গ্রহণের রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু ভরাডুবির পর থেকেই সেই রাজীবকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না কালীঘাট চত্বরে। এসবের মাঝেই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের ডাকা বৈঠকে তৃণমূলত্যাগী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে দেখা গেল তাঁকে। এতেই জল্পনার সূত্রপাত, এবার কি তবে মমতার হাত ছাড়বেন রাজীবও?

    সালটা ২০১৯। ফেব্রুয়ারিতে চিটফান্ড মামলার তদন্তে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। এই ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বাংলা দেখেছিল এক পুলিশকর্তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে এসপ্ল্যানেডে ধরনায় বসেছিলেন মমতা। পরবর্তীকালে বারবার মমতা-রাজীব কুমারের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ মিলেছে। গতবছর অবসর গ্রহণ করেন রাজীব কুমার। তারপরই চলতি বছরে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, মানেকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমার-এই চারজন একসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ হন। 

    ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। দল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। একে একে মমতার পুরনো সৈনিকদের প্রায় সকলেই তৃণমূল ছেড়েছেন। এদিকে দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কদের নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে তৃণমূলের প্রতীক ও ফান্ডও হাতছাড়া হতে পারে মমতার। এইরকম জটিল পরিস্থিতিতে মমতার খুব একটা দেখা যাচ্ছে না রাজীব কুমারকে। যদিও একুশ জুলাইয়ের মঞ্চে ছিলেন তিনি। এসবের মাঝে গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করতে বাংলার সাংসদদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। সেই বৈঠকেই দেখা গেল রাজীবকেও। সেখানেই এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। যা উসকে দিয়েছে দলত্যাগের জল্পনা। কাকলির পোস্ট করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, তাঁর পাশেই রাজীব। কাকলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই এবার রাজীবের রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।    

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)