বিনা অনুমতিতে ভিনরাজ্যের প্লাজমা বিক্রির পর এবার নাবালকদের থেকে রক্ত নেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্গাপুরের (Durgapur) এক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। ঘটনায় নাবালকদের অভিভাবকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের (Sharadwat Mukherjee )।
বঙ্গে মোট বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের সংখ্যা ৭৩। তদন্তে নেমে তার মধ্যে ১১ টির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তাদেরকে আপাতত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে বারণ করা হয়েছে। অভিযোগ, অনুমতি না নিয়ে ভিনরাজ্যে বেআইনি প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার প্লাজমা বিক্রি করা হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের মালিকের বিরুদ্ধে রক্ত পাচারের অভিযোগ ওঠে। শেষ খবর, আগাম জামিন নিয়ে ওই ব্লাডব্যাঙ্কের দুই কর্তা বিদেশ পালিয়ে গিয়েছেন। যদিও দুই কর্তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। বুধবার এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভাসা ভাসা খবর আমিও পেয়েছি। মনে হচ্ছে তারা দেশের বাইরে।’’ কিভাবে তাদের ফেরত আনা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। এরই মধ্যে নাবালকদের রক্তদানের অভিযোগ সামনে এসেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, বয়স আঠেরো না হলে রক্তদান আইনত অপরাধ। কিন্তু দুর্গাপুরে তেমন ঘটনার হাতেগরম প্রমাণ মিলেছে। ঘটনায় ওই নাবালকদের অভিভাবকদের আটক করা হতে পারে। তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘‘১৫ বছরের বাচ্চাদের রক্তদান হয়েছে। এবার তাদের বাড়ির লোককেও আটক করা হবে।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘একটা উপহারের প্রলোভনে বাচ্চার জীবন এত ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারেন যাঁরা আরও বড় প্রলোভন পেলে তারা তো বাচ্চাকে বিক্রি করে দেবেন। একটা কোথাও তো লক্ষণ রেখা টানতে হবে।’’
এদিকে নিয়ম না মানার জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কের পর ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ডায়গনস্টিক সেন্টারের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ২৪ টা ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরি তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনায় বসবে স্বাস্থ্য দপ্তর।