• টাটার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা রাজ্যের, সিঙ্গুরে নয়া দিশা?
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: টাটাকে সিঙ্গুরের জমির ক্ষতিপূরণ মেটাতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মানবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিল্প দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব মুম্বইতে টাটাগোষ্ঠীর সদর দপ্তরে গিয়ে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানিয়ে এসেছেন। কর্তৃপক্ষ সম্মত হলে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে মুম্বইতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তৃণমূল সরকার সিঙ্গুরের আর্থিক ক্ষতিপূরণ টাটা গোষ্ঠীকে না দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নেওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছিল। নতুন সরকারের একাংশের বক্তব্য, দু’পক্ষের সম্পর্ক মসৃণ হলেই রাজ্যে শিল্পস্থাপনের জন্য টাটাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    ২০০৬–এ একলাখি গাড়ির কারখানার জন্য তৎকালীন বাম সরকার সিঙ্গুরে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা গোষ্ঠীকে দিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবল আন্দোলন শুরু করেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনের জেরে ২০০৮–এর পুজোর ঠিক আগে বাংলা ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন টাটার তৎকালীন প্রধান রতন টাটা।

    ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতা বদল হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সিঙ্গুরের জমি চাষিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও কারখানা গড়তে না পারায় টাটা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তারা। বিষয়টি গড়ায় আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। ২০২৩–এর অক্টোবরে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাটা মোটর্সকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা মেটানোর নির্দেশ দেয় রাজ্যকে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আরও বলা হয়, ২০১৬-র ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা না মেটানো পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। এছাড়া নিগমকে আরও ১ কোটি টাকা মামলার আইনি খরচ হিসেবে মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে পূর্বতন তৃণমূল সরকার আলোচনার মাধ্যমে নিস্পত্তির পথে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল পিটিশন করে। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন।

    এই আইনি জটিলতার মধ্যেই চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে পালাবদল হয়। নতুন সরকার পুরো বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য উদ্যোগী হয়। নবান্ন কর্তাদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টে টাটা গোষ্ঠীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে মামলার বিষয়ে আলোচনা করতেই মুম্বইতে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি। ওই আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলেও সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে উভয় পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিল্পায়নের স্বার্থে অতীতের জটিলতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও রাজ্য সরকার বা টাটা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    টাটার পাওনা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কী ভাবে মেটানো হবে? সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে নবান্ন ইতিমধ্যেই একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে। টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরে সে বিষয়ে জানানো হবে।

  • Link to this news (এই সময়)