শুধু সুসংহত পরিকল্পনা নয়। একটি নির্দিষ্ট নীতির মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে চাইছে রাজ্য। তাই খুব শীঘ্রই ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি আনতে চলেছে রাজ্যের পর্যটন বিভাগ। আগামী ৮ ই আগস্ট রাজ্যের বিনিয়োগ বিষয়ে যে ‘গ্রুপ অফ মিনিস্টার’ রয়েছে সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর পাঠানো হবে ক্যাবিনেট নোট। অর্থাৎ সেই নীতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ওই প্রস্তাবটি আসার কারণ, তার ইতিহাস, প্রয়োজন। এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে ক্যাবিনেটে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হবে। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি বলরামপুরের নেকড়েতে একটি বেসরকারি পর্যটন প্রকল্পে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার কনফারেন্সে এই বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন রাজ্যের পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী শংকর ঘোষ। ওই সম্মেলনে ছিলেন এই বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও পূর্ত বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি, পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণকুমার রায়।
পর্যটনে বিনিয়োগ করা শিল্পসংস্থারা যাতে রাজ্যে সঠিক জায়গায় পর্যটন প্রকল্প নিয়ে মুনাফা করতে পারেন তার জন্য প্রোটেনশিয়াল টুরিস্ট স্পট চিহ্নিত করছে পর্যটন বিভাগ। জেলায় জেলায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধনে এই কাজ হবে। এই কাজের উদ্দেশ্যই হল পর্যটন বিনিয়োগকারীদের এই শিল্পের জন্য একেবারে উপযুক্ত স্থান বেছে দেওয়া। যাতে বিনিয়োগ করার পর পর্যটন শিল্প সংস্থাগুলি কোনভাবে হতাশ না হন। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন ক্ষেত্র হিসাবে দেশ-বিদেশের কাছে তুলে আনা। পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী বলেন, “আমরা খুব শীঘ্রই ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি আনছি। বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দিতে চাই। সেই সঙ্গে আইন না মেনে বাড়তি সুবিধা আদায় এটা হবে না। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে দেশ-বিদেশের কাছে তুলে ধরতে আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” সেই পদক্ষেপে রয়েছে নতুন করে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। ইতিমধ্যেই তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে ত্বরান্বিত করতে রাজ্যের সমস্ত ট্যুরিজম প্রপার্টির একটি স্যাটেলাইট ম্যাপ তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেকটি জেলার নিরিখে সেখানকার পর্যটন ভাবনাকে সামনে রেখে একটি ক্যাচলাইন প্রকাশ করা হবে। যার মধ্য দিয়ে পর্যটক টানা যায়। সেই সঙ্গে রাজ্যের পাশাপাশি জেলায়-জেলায় ট্যুরিজম হেল্পলাইন চালু হচ্ছে। পর্যটনে প্রতারণা ঠেকানো, পর্যটকদের সুরক্ষা ও নানান সুবিধা সমূহে কয়েকজন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে এই হেল্পলাইন ব্যবস্থা চলবে। জেলার হেল্পলাইন গুলি সংযুক্ত থাকবে রাজ্যের নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে। অর্থাৎ রাজ্যের হেল্পলাইনে কোন কিছু সমস্যা জানানো হলে তা সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে পর্যটকদেরকে একেবারে উন্নত মানের পরিষেবা দিতেই এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু করছে রাজ্যের পর্যটন বিভাগ। সেই সঙ্গে পৃথক হোমস্টে পলিসিও আসছে। অর্থাৎ বিগত সরকারের মতো বন ও পরিবেশকে ধ্বংস করে কোনভাবেই পর্যটন নয়। সেই সঙ্গে কোন কিছু খোঁজ খবর না করেই অপরিকল্পিতভাবে বনদপ্তরের জমিতে পরিকাঠামো তৈরি করে দিয়ে পরবর্তীকালে পিছু হঠা এমন পুনরাবৃত্তি আর কোনোভাবেই চায় না রাজ্য পর্যটন বিভাগ।