• তৈরি সিলেবাস কমিটি! ২০২৮-এ বিরাট পরিকল্পনা, ঘোষণা
    আজকাল | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • বিউ সরকার: রাজ্যে পালাবদলের পর মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে প্রথম সিলেবাস কমিটি বৈঠক আয়োজন করা হয়। পড়ুয়াদের পাঠ্যক্রমকে কী ভাবে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের উপযোগী করে তোলা যায়, সে জন্য গঠন করা হয়েছে সিলেবাস শিক্ষা কমিটি। আজ সেই নিয়েই বৈঠক হয়।

    জানা গিয়েছে, নয়া এই সিলেবাস শিক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকবেন অধ্যাপক দেবাশীষ চ্যাটার্জী। পাশাপাশি থাকবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদেরাও। মূলত এই কমিটির কাজ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য যে সিলেবাস রয়েছে, তা পুনরায় খতিয়ে দেখা।যে বইগুলি এতদিন পড়ুয়াদের পাঠদানে সহায়ক ছিল, সেগুলিই রাখা হবে। নতুন কিছু এখনই আলাদা ভাবে যুক্ত করা হবে না।

    মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জি, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, শিক্ষা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী ও শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার, সিলেবাস কমিটির সদস্য অরিন্দম ব্যানার্জি। উপস্থিত ছিলেন সিলেবাস শিক্ষা কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বিদ্যালয় এর বিভিন্ন আধিকারিকেরাও। তাঁদের সঙ্গেই চলে প্রাথমিক পর্বের আলোচনা।

    দীপক বর্মন জানান, ২০২৮ সালে সরকারের বিরাট পরিকল্পনা। আগামী বছর যে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে, তার খসড়া প্রস্তুত করার পরই তা বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠনকে পাঠানো হবে। প্রত্যেকের মতামত জানতে চাওয়া হবে। বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়েই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "পাশ-ফেল নীতি, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনেই ২০২৮ সালেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" পাশাপাশি, তিনি জানান, স্কুল-কলেজে ভয় মুক্ত পরিবেশ এবং তোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

    দীপক বলেন, "নতুন সিলেবাসে রাজনীতির কোনও স্থান নেই। সিলেবাস কমিটি যদি বিবেচনা করে সাম্প্রতিক অতীতের ঘটনা ইতিহাস বইতে স্থান পাবে, তখন আমরা বিবেচনা করে দেখব। আগের সরকারের মতো হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নেব না। শিক্ষাবিদরা সিলেবাস কমিটি সঠিকভাবে পরামর্শ দেবে বলেই আমরা মনে করি। তারা যদি বিবেচনা করে রাখা উচিত নয় তাহলে রাখবে না। তারা সুপারিশ করবে সিদ্ধান্ত আমরা পড়ে নেব। আমরা কী সিদ্ধান্ত নেব, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। কমিটিতে আলোচনা হবে প্রাথমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কিছু বিষয় নিয়েও। সিলেবাস কমিটির উপর কোন প্রকারের রাজনীতি চাপ থাকবে না। তারা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারবে।"

    সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা প্রসঙ্গে তাঁর মত, তৃণমূল সরকারের আমলে যা হয়েছে, তা বাদ দিতে হবে। এই ধারণায় তাঁদের সরকার বিশ্বাসী নয়। এই সরকারের কোনও ইগো নেই। যা কিছু ভাল, তা গ্রহণ করা হবে। খারাপ জিনিস বর্জন করা হবে। বরং তা ছাত্রদের জন্য উপযোগী কিনা সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি তাঁর বক্তব্য,"তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে যে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলি চালু হয়েছিল, সেগুলি রয়েছে। পরবর্তীতে নতুনভাবে কিছু চালু করা যায় কিনা কিছু প্রস্তাব আমাদের সামনে আছে সেগুলো নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।"

    একইসঙ্গে এ দিন তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্য শিক্ষা দপ্তর ২০২৭ সালের ২রা জানুয়ারি বই দিবস হিসেবে দপ্তর পালন করবে। তার আগে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বই পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, "বই দেরিতে পৌঁছনোর জন্য কিছু টেকনিক্যাল বিষয় থাকে। আশা করছি সমস্ত বই ঠিক সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাবে পড়ুয়াদের হাতে।

    এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথাগত রায়-ও। পাঠ্যক্রমে কী কী রাখা উচিত, সে বিষয়ে তাঁর মত, অরাজনৈতিক যে সকল মনীষী রয়েছেন, তাদের পাঠ্যক্রমে রাখা প্রয়োজন। পাঠ্যক্রমে সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো কোনও রাজনীতির বিষয় রাখা উচিত না। তবে পাঠ্যক্রমে যাতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইতিহাস এবং যে সকল ইতিহাস পূর্বতন সরকার ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, সে সকল বিষয়বস্তু রাখা উচিত। 
  • Link to this news (আজকাল)