বাচ্চাদের ছোঁড়া ঢিলে খেপে গেল ভিমরুলের ঝাঁক, কিছু না করেও 'টার্গেট' হয়ে গেলেন নিরীহ প্রৌঢ়
News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
ছুটির পর খেলার ছলে ভিমরুলের চাকে ঢিল, আর তাতেই বিপত্তি। প্রাণ হারালেন প্রৌঢ়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে শিশুদের এক মুহূর্তের চপলতা। খেলার ছলে গাছের ভিমরুলের চাকে ঢিল। কিন্তু কে জানত, সেই অবোধ বাচ্চাদের আনন্দই এক প্রৌঢ়ের জন্য ঢেকে আনবে চরম ও মর্মান্তিক পরিণতি! পড়ুয়াদের ছোঁড়া ঢিলে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ঘিরে ফেলে ভিমরুলের ঝাঁক। সেই সময় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া প্রৌঢ় ভুগেল দাস হয়ে ওঠেন টার্গেট।
কামড়ের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তভেজা শরীরে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হল না। পরিবারের অভিযোগ, শুধু কামড় নয়, জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চরম গাফিলতির জেরে প্রাণ হারিয়েছেন প্রৌঢ়। ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ির জোড়াপাকরি এলাকায়। জানা গিয়েছে, গত সোমবার বিকেলে কাজ সেরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন ৫০ বছর বয়সী ভুগেল দাস। ঠিক সেই সময়েই স্থানীয় একটি স্কুল ছুটি হলে বেশ কিছু বাচ্চা বাড়ি ফিরছিল।
পথেই রাস্তার পাশের গাছে থাকা ভিমরুলের চাক দেখে তারা খেলার ছলে ঢিল ছোড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে ভিমরুল বেরিয়ে এসে হামলা চালায় ওই প্রৌঢ়ের ওপর। বয়সজনিত কারণে তিনি দৌড়ে পালাতে পারেননি। ভিমরুলের কামড়ে কান ও শরীর দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে মঙ্গলবার সকালে।
মৃতের আত্মীয় মানস দাস ও ছেলে চিরঞ্জিত দাসের দাবি, গতকাল বিকেল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ভুগেলবাবু একদম সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি নিজে হেঁটে বাথরুমে যান, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সকালের খাবারও খান। কিন্তু সকালের দিকে কিছুটা শারীরিক অস্বস্তির কথা বলা হলেও নার্সরা কোনও পাত্তাই দেননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করে ওষুধ বা চিকিৎসা শুরু করার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফলে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও তুলেছে পরিবার।