• দেখা মাত্রই ছুটে আসে ভালবাসার 'কাঙালগুলো', বিস্কুট তো উপরি পাওনা! বেলদায় মন ভাল করা ছবি
    News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • শীতের কনকনে ঠান্ডা হোক বা বর্ষার অঝোর ধারা, কোনও কিছুই তাঁর রুটিন বদলাতে পারে না। সাতসকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি বেরিয়ে পড়েন এক অভিনব মিশনে। লক্ষ্য, রাস্তার অবলা প্রাণীগুলোর মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়া। যাঁদের থাকার কোনও নির্দিষ্ট জায়গা নেই, যাঁরা সারা রাত জেগে গোটা এলাকা পাহারা দেয়, সেই সব পথকুকুরদের পরম মমতায় খাইয়ে তবেই দিন শুরু করেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদার বাসিন্দা সুজিত চক্রবর্তী। প্রতিদিন প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে রাস্তার কুকুরদের বিস্কুট খাওয়ানোই যেন তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বেলদা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রোজ তাঁর অপেক্ষায় বসে থাকে পথকুকুররা। তাঁকে দূর থেকে আসতে দেখলেই ছুটে যায় তারা, সঙ্গ নেয় পরম নির্ভরতায়। সুজিতবাবুও নিজের দেওয়া আদরের নাম ধরে ডেকে ডেকে তাদের বিস্কুট খেতে দেন। প্রতিদিন সকালে প্রায় ২৫ প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে বেরোন তিনি। এলাকার ৫০টিরও বেশি কুকুর তাঁর হাত থেকে পরম তৃপ্তিতে খাবার খায়। তিনি মনে করেন, বাড়িতে পোষা কুকুররা তো নিয়ম করে খাবার পায়, কিন্তু এই রাস্তার অবলা প্রাণীগুলির পেট ভরানোর কেউ নেই। তাই তাদের মুখে খাবার তুলে দিয়েই তিনি খুঁজে পান চরম মানসিক প্রশান্তি।

    পেশায় একজন ঠিকাদার হলেও সমাজসেবা করাটাই সুজিতবাবুর সবচেয়ে বড় নেশা। সারা বছর জুড়েই তিনি নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখেন। কখনও মেধাবী পড়ুয়াদের হাতে বই তুলে দেওয়া, কখনও বা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া, সবেতেই তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এমনকী আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের বিয়ের বন্দোবস্ত করতেও কখনও পিছপা হন না তিনি। তবে সারাদিনের এই হাজারো ব্যস্ততা ও সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যেও তাঁর দিন শুরু হয় ওই অবলা প্রাণীগুলির প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েই।

    প্রতিদিন নিয়ম করে, কোনওরকম বিরতি ছাড়াই তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজ আজ এলাকার মানুষের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে, দিনের পর দিন এই রাস্তার কুকুরদের জন্য তিনি যে ভালবাসা ও দায়বদ্ধতা দেখিয়ে চলেছেন, তা বর্তমান সমাজে সত্যিই বিরল। অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি পথকুকুরদের প্রতি তাঁর এই মানবিক চিন্তাভাবনা ও নিরলস উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে অনেকেই এখন তাঁকে দেখে নতুন করে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)