দুপুর থেকে টানা বৃষ্টি পড়ছে। জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলল বজ্রপাতও। তার জেরেই সোমবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৬ জন। হাওড়ার জগতবল্লভপুর, বাগনান এবং বাঁকুড়ার রাইপুরে পৃথক ঘটনায় এই মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন।
এ দিন দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর ব্লকের মাজু-হরিনারায়ণপুর এলাকার একটি মাঠে চাষের কাজ করছিলেন কয়েক জন কৃষক। আচমকা বজ্রপাত হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অনুপ কর এবং মানবেন্দ্র মণ্ডল। গুরুতর আহত হন দীপক সাউ-সহ আরও এক ব্যক্তি। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বাগনান থানার কাঁটাপুকুর গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে চুমকি বেগম (৪২) নামে এক মহিলার। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশের বাগানে ফুল তুলছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকা বজ্রপাতে গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বাগনান থানার পুলিশ।
এ দিনই বাঁকুড়ার রাইপুরের পেঁচাকোলা এলাকায় বোনকে নিয়ে স্কুটিতে চেপে ডিউটি থেকে ফিরছিলেন সু-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী মণিমালা হাঁসদা। পথে আচমকা বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাঁকুড়া জেলায় বজ্রপাতে মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দু’জন।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। খোলা মাঠ, গাছের নীচে বা জলাশয়ের ধারে না যাওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। কিন্তু সতর্কতা সত্ত্বেও সোমবার হাওড়া ও বাঁকুড়ায় একাধিক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণহানির খবর সামনে এল।
১. সোমবার বজ্রপাতে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পৃথক ঘটনায় সোমবার অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২. সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
হাওড়ার জগতবল্লভপুরের মাজু-হরিনারায়ণপুরে মাঠে চাষের সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুই জন।
৩. বাগনানে কী ঘটনা ঘটেছে?
বাগনানের কাঁটাপুকুর গ্রামে বাড়ির বাগানে ফুল তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে চুমকি বেগম (৪২) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়।
৪. বাঁকুড়ার রাইপুরে কারা মারা গিয়েছেন?
রাইপুরের পেঁচাকোলা এলাকায় ডিউটি সেরে স্কুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সু-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী মণিমালা হাঁসদা এবং তাঁর বোনের মৃত্যু হয়।
৫. প্রশাসন কী সতর্কবার্তা দিয়েছিল?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রশাসন খোলা মাঠ, গাছের নীচে, জলাশয়ের ধারে বা খোলা জায়গায় বজ্রবিদ্যুতের সময় না থাকার আবেদন জানিয়েছিল।
৬. বজ্রপাতের সময় কী কী সতর্কতা মানা উচিত?