পরিচারিকার কাজ করে চলে সংসার, অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৩২ কোটি টাকা!
প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। সংসারের জোয়াল টানতে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। বিধবা ভাতা ও পরিচারিকার সামান্য আয়ই ভরসা। সেই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই ঢুকেছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামে। ওই বাসিন্দা ঝুমা দাসের ব্যাঙ্কের পাশবইয়ে এই বিপুল অঙ্ক দেখে হইচই ছড়িয়েছে এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাস ধরে ওই মহিলা বিধবাভাতা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। টাকা না পেয়ে আজ, সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ওই শাখায় পাশবই আপডেট করাতে যান ঝুমাদেবী। আপডেট করতেই তিনি চমকে ওঠেন। তিনি দেখেন, গত ৪ জুলাই তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবাভাতা বাবদ ১ কোটি টাকা জমা পড়েছে! হতবাক হওয়ার আরও বিষয় রয়েছে। কারণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আরও ৩১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৯৭ টাকা জমার এন্ট্রি রয়েছে। এত বড় অঙ্ক দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। বাড়ি ফিরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে মঙ্গলকোট থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
দুপুরে বোনপোকে সঙ্গে নিয়ে ফের ব্যাঙ্কে যান তিনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি কম্পিউটারজনিত ত্রুটি। পরে ঝুমাদেবীর পাশবই পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তবে ১ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত কোনও লেনদেনের তথ্য নতুন পাশবইয়ে ছিল না বলে অভিযোগ। ঝুমাদেবী বলেন, “এত টাকা আমার প্রাপ্য নয়। আমি চাই তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আসুক। যদি ভুল হয়ে থাকে, ব্যাঙ্ক সেই টাকা ফিরিয়ে নিক।”
তাঁর ভাই গৌতম দাসের প্রশ্ন, বিধবা ভাতার জায়গায় ১ কোটি টাকা দেখানো হল কীভাবে? সত্যিই কি এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, না কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝুমাদেবীর বাড়িতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমেছে। যদিও এই পরিস্থিতিতে তিনি যথেষ্ট অস্বস্তিতে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় কোনও গলদ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।