• রামপুরহাটে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের জন্য বিরাট ঘোষণা বিধায়কের, কর আদায় নিয়েও 'আল্টিমেটাম'
    News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • ছরের পর বছর ধরে বকেয়া কর দীর্ঘদিন ধরে না মেটানোয় চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছে বীরভূম জেলার রামপুরহাট পুরসভা। তথ্য বলছে বর্তমানে অনাদায়ী করের পাহাড় জমে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি। আর শহরের এই সংকটজনক পরিস্থিতি কাটাতে এবং শহরের নাগরিক পরিষেবাকে নতুন রূপ দিতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন রামপুরহাট বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। পুরসভা কার্যালয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএমডিসি ত্রিভুবন নাথের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা।

    বৈঠকে কেমন ভাবে পুরসভার আয় বৃদ্ধি করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শহরের যানজট ও জঞ্জাল মুক্তি, পানীয় জলের অপচয় বন্ধ, ও কেন্দ্রীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন বিধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার শূন্য কোষাগার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি স্পষ্ট জানান, পুরসভার আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে গেলে পুরসভার টাকার প্রয়োজন। তাই যে ডিপার্টমেন্টই হোক না কেন, পুরকর আটকে রাখা আর কোনও ভাবে যাবেনা।

    রামপুরহাট পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, সেই লক্ষ্যমাত্রা কোনও ভাবেই পূরণ করা যাচ্ছে না। মেরেকেটে আদায় হচ্ছে মাত্র দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। অথচ এই সম্পত্তি করের ওপর নির্ভর করেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক ও উন্নয়নমূলক কাজের খরচ বহন করতে হয়। আবার অন্যদিকে বিগত ৩০ বছর ধরে কর না দেওয়ায় রেলের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও রামপুরহাট মহকুমার প্রধান ডাকঘরের গত ২১ বছরের বকেয়া কর প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

    তাই রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিষেবা নেব অথচ কর দেব না এই নীতি আর চলবে না। অন্যদিকে বিধায়ক বলেন, রেল কর্তাদের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। শহরের যানজট দূর করতে পাঁচামাথার মোড়ে রেলের জায়গায় (৪৭ মিটার বাই ২১ মিটার) একটি দ্বিতল মার্কেট তৈরি করা হবে। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সেখানে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সিএমওইচ অফিস চত্বরে ২ বিঘা জমিতে থাকা দুঃস্থ পরিবারগুলিকে স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সেখানেও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের জন্য একটি মার্কেট এবং পুরসভার নিজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য একটি সরকারি গেস্ট হাউস নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ করেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)