ওল্ড-নিউ দিঘায় স্পা সেন্টারের আড়ালে রমরমা মধুচক্র, যা চলছিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশেরও
News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
রাজ্য তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘা। দিঘা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আর সেই দিঘা একাধিক স্পা সেন্টারে হানা দিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের! কারণগুলি নামেই স্পা সেন্টার, কিন্তু তার আড়ালে চলছিল রমরমিয়ে মধুচক্রের আসর। দিঘায় এ ধরনের ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাই পুলিশ প্রশাসন দিঘায় মধুচক্রের আসর ভাঙতে উদ্যোমী ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একাধিক স্পা সেন্টারে বিশেষ নজরদারির অভিযান চলবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দিঘায় স্পা ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কাজকর্ম চলছিল। অধিক ভাড়ার লোভে কিছু দোকান মালিকও তাঁদের দোকান এই ধরনের ব্যবসার জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, এই চক্রের সঙ্গে শুধু দিঘা নয়, কাঁথি, এগরা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকারও বেশ কয়েকজন যুক্ত রয়েছেন। দিঘায় দীর্ঘদিন ধরে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক ও অবৈধ কার্যকলাপ চলার অভিযোগ জমা হচ্ছিল থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ দিঘার একাধিক স্পা সেন্টারে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন কয়েকটি স্পা সেন্টার থেকে আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের আরও কয়েকটি স্পা সেন্টারের কর্মীরা দোকান বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, স্পা সেন্টারের আড়ালে চলা সমস্ত অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত সেগুলি বন্ধ করা হোক। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিঘা থানার পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, “গত কয়েকদিন ধরেই আমাদের কাছে খবর আসছিল। তার ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এরকম ড্রাইভ চলবে। এরকম ইলিগ্যাল এক্টিভিটি শক্ত হাতে দমন করা হবে।” প্রসঙ্গত, বাঙালির প্রথম পছন্দের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নাম উঠে আসে দিঘার। দিঘা বর্তমানের শুধুমাত্র সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র না। দিঘা জগন্নাথ ভক্তদেরও কাছের জায়গা হয়ে উঠেছে। সেই দিঘায় পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে একাধিক স্পা সেন্টার। কিন্তু অভিযোগ এগুলি নামেই স্পা সেন্টার। তার আড়ালে চলে মধুচক্রের মতো অবৈধ কাজকর্ম। তাই এবার দিঘাকে এ সবের থেকে মুক্ত করতে সচেষ্ট হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।