সব রেকর্ড ভেঙে কুইন্টাল প্রতি মিলছে বিপুল দাম! কার কৃপায় উপচে পড়ছে পকেট? সত্যিটা জানুন
News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
জুটমিল চালুর আশায় বাড়ছে স্বপ্ন, ভাল দামের প্রত্যাশায় আশাবাদী বসিরহাটের পাট চাষিরা। একসময় বাংলার ‘সোনালি আঁশ’ নামে পরিচিত পাট আজও উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এবারও ব্যাপক হারে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় এবং বাজারে শুরুতেই সন্তোষজনক দাম মেলায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছিল।
চাষিদের দাবি, গত প্রায় ১৫ বছরের তুলনায় চলতি মরসুমের শুরুতে পাটের দাম ছিল অনেকটাই বেশি। যেখানে অন্যান্য বছর প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম সাধারণত ৬,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করত, সেখানে এ বছর মরসুমের শুরুতে দাম ৯,০০০ টাকারও বেশি ওঠে। যদিও বর্তমানে বাজারদর কিছুটা কমেছে, তবুও আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি এখনও অনেকটাই আশাবাদি বলে মনে করছেন তারা। কৃষকদের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর হুগলি নদীর তীরবর্তী একাধিক পাটকল চালু হওয়ার উদ্যোগে পাটের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফলে আগামী দিনে বাজারে পাটের দাম আরও বাড়বে বলেই তাদের আশা। এতে চাষের খরচ উঠে আসার পাশাপাশি লাভের মুখও দেখতে পারবেন বলে বিশ্বাস তাঁদের। বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কৃষকরা এখন ভাল দামের আশায় পাট বাজারে তুলছেন। অনেকেই মনে করছেন, চটকলগুলিতে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় বাজারেও পাটের কেনাবেচা আরও চাঙ্গা হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা দেশ-বিদেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ফসলের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষে আরও বেশি কৃষক আগ্রহী হবেন। এখন চাষিদের একটাই প্রত্যাশা—পাটকলগুলি পূর্ণোদ্যমে চালু থাকুক, বাজারে চাহিদা বাড়ুক এবং তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য মিলুক। কারণ পাটের ন্যায্য দামই পারে বসিরহাটের হাজার হাজার কৃষক পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির নতুন দিশা দেখাতে।