• শেষ উত্তর আর লেখা হল না..., পরীক্ষা হলেই থামল তন্ময়
    আজকাল | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • মনিরুল হক, কোচবিহার: শেষ উত্তরটা এখনও লেখা বাকি। প্রশ্নপত্রের উপর ঝুঁকে বসেছিল বছর তেরোর এক কিশোর। কয়েক মিনিট পরেই হয়তো পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা পড়ত। কিন্তু তার আগেই থেমে গেল সব কিছু। পরীক্ষার বেঞ্চ থেকে আর নিজের পায়ে ওঠা হল না তন্ময় বর্মনের। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় পৌঁছনোর আগেই নিভে গেল সপ্তম শ্রেণির সেই ছাত্রের জীবন।

    সোমবার দিনহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সামিটিভ পরীক্ষা চলছিল। অন্যদিনের মতোই সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে বেরিয়েছিল তন্ময় বর্মন (১৩)। পরিবারের দাবি, সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল সে। কোনও অসুস্থতা, জ্বর বা শারীরিক সমস্যার অভিযোগ ছিল না। নির্ধারিত সময়ে স্কুলে পৌঁছে পরীক্ষার খাতায় উত্তরও লেখা শুরু করে। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে তন্ময়। সহপাঠীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির গুরুত্ব টের পান শিক্ষকরা। সময় নষ্ট না করে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টার আগেই যেন সময় ফুরিয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হৃদযন্ত্রের সমস্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাবে না। সেই রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে পরিবার থেকে পুলিশ সকলেই।

    স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তন্ময় অসুস্থতার কথা জানাতেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। স্কুলজুড়ে মুহূর্তে নেমে আসে স্তব্ধতা। যে শ্রেণিকক্ষে কিছুক্ষণ আগেও পরীক্ষা চলছিল, সেখানে পরে শুধু ফিসফাস আর কান্নার শব্দ।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন তন্ময়ের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কথায়, সকালে একেবারে স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ছেলে। হাসিমুখে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে ঘটল, তা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। সুস্থ-সবল একটি ১৩ বছরের কিশোরের আচমকা মৃত্যু স্বাভাবিক বলেই মানতে পারছেন না পরিবারের কেউ। ওই ঘটনার পর দিনহাটা জুড়ে শোকের আবহ। সহপাঠীরা হারিয়েছে তাদের এক বন্ধুকে, শিক্ষকরা হারিয়েছেন এক ছাত্রকে। অভিভাবকদের মনেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ স্কুলে পড়তে যাওয়া সন্তান কতটা নিরাপদ?
  • Link to this news (আজকাল)