নিজের বাড়িতেই নৃশংস পরিণতি নাবালিকার। নির্মম নির্যাতন ও মারধরে থেঁতলে দেওয়া হয় মুখ। গোপানাঙ্গে গেঁথে দেওয়া হয় রড। অসমের হাইলাকান্দি এলাকার এক বাড়ি থেকে এমনই মর্মান্তিক অবস্থায় উদ্ধার হলো ১৫ বছর বয়সি কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরী মারধরের পরে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়। এতটাই নৃশংস ছিল সেই অত্যাচার যে, দেহ দেখে চেনা যাচ্ছিল না। রবিবার এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। দোষীদের গ্রেপ্তারির দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখানো হয়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে, অসমের হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়া থানা এলাকার আলোইছড়া গ্রামে, যা ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই অবস্থিত। পরিবারের লোকজন জানান, শনিবার অর্থাৎ ১ অগস্ট, রাতে তাঁরা কাছেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে নৈশভোজে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে সামান্য বচসার পরে কিশোরীটি একা বাড়ি ফিরে আসে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে পরিবারের লোকজন বাড়িতে ফিরে দেখে ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত ও বিকৃত দেহ।
অভিযোগ, আততায়ীরা ঘরের ভারী জিনিসপত্র ও বাসনপত্র ব্যবহার করে মেয়েটির মাথা ও মুখ থেঁতলে দিয়েছে। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, তার উপরে অত্যন্ত পাশবিক উপায়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায়। এমনক, নিহত নাবালিকার যৌনাঙ্গে লোহার রড গেঁথে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (SMCH) পাঠানো হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যরাতেই কাটলিছড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের অভিযোগের চিকিৎসাগত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। হাইলাকান্দির সিনিয়র পুলিশ সুপার (SSP) অমিতাভ সিনহা জানিয়েছেন যে, ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তুললেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।