• জঙ্গল-নদী আর দেবী চৌধুরানীর ইতিহাস! বৈকুণ্ঠপুরে পা রাখলেই এবার মিলবে 'মেগা সারপ্রাইজ'
    News18 বাংলা | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • : উত্তরবঙ্গের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে এবার বাস্তব রূপ পেতে চলেছে ‘নগর বন’ প্রকল্প। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন শিবনগর এলাকায় প্রায় ১৪৩ হেক্টর বনভূমিকে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং বন ও পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা। প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখেই পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    পরিদর্শনের সময় জানানো হয়, পুরো ১৪৩ হেক্টর এলাকাকে ধাপে ধাপে উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট অংশে পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে, পরে পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাও উন্নয়ন করা হবে। শুরুতেই বনাঞ্চল সুরক্ষার জন্য ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং পরিবেশবিদ, বন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মতামত নিয়ে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে। জঙ্গল, নদী ও জীববৈচিত্র্যের কোনও ক্ষতি না করেই সম্পূর্ণ ইকো-ট্যুরিজমের আদলে এই ‘নগর বন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও বলেন, পর্যটকদের জন্য উত্তরবঙ্গে একটি নতুন আকর্ষণ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে আধুনিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই কাজ চলছে। পার্কে ঠিক কী কী পরিকাঠামো থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই বন, পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, বন দফতরের উদ্যোগে বিষয়টি সামনে আসার পর বনমন্ত্রী নিজে এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মতে, বৈকুণ্ঠপুরের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় একই সঙ্গে বনভূমি, নদী এবং গ্রাসল্যান্ডের যে বিরল সমন্বয় রয়েছে, তা দেশের খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। সেই বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখেই ‘নগর বন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা ভারতের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলেও তিনি আশাবাদী।

    জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৈকুণ্ঠপুর শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আদিবাসী ও ভাষাভাষী মানুষের সহাবস্থান, নদী, বন এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এই এলাকাকে আরও অনন্য করে তুলেছে। তাঁর মতে, বন ও পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই ‘নগর বন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৈকুণ্ঠপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

    সরকারের আশা, ‘নগর বন’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও যুক্ত হবে নতুন অধ্যায়। প্রকৃতি, ইতিহাস ও পরিবেশ শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বৈকুণ্ঠপুরকে এক নতুন পরিচয়ে তুলে ধরবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)