আইপ্যাকের যোগসাজশে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রেও দুর্নীতি! কড়া ‘অ্যাকশন’ নবান্নের
প্রতিদিন | ০৩ আগস্ট ২০২৬
সরকারি পরিষেবা দেওয়ার নাম করে তৃণমূলের জমানায় দুর্নীতি হয়েছে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশ তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশল
নির্ধারণ করা সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে জড়িত বলে বিধানসভায় বিস্ফোরক হয়েছিলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। আর তারপরেই গত জুন ও জুলাই মাসের তাদের পারিশ্রমিক স্থগিত করলো নবান্ন। কর্মী ও প্রশাসনিক বর্গ সংস্কার বিভাগ থেকে স্পেশাল সেক্রেটারি সমস্ত জেলার জেলাশাসকদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসের পারিশ্রমিক বিল আপাতত প্রক্রিয়া বা প্রদানের জন্য পেশ করা যাবে না।
ওই চিঠিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলেই জানানো হয়। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই খাতে বরাদ্দ তথা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত বিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে না। ওই চিঠিতে নোট দিয়ে মোস্ট আর্জেন্ট লেখা হয়েছে। বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, “বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে এই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূলের ভোট কৌশল নির্ধারণ করা আই প্যাকের সঙ্গে এদের একাংশের যোগ রয়েছে।” রাজ্যে ৩৫৬১ টি বাংলা সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে মোট ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা ৭১২০ জন। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এই বাংলা সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। কোন পঞ্চায়েতে অবশ্য দুটি করে কেন্দ্র আছে।
বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন এবং অনলাইনে সরকারি মূলক পরিষেবা প্রদানের জন্যই এই বাংলা সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়। এই কেন্দ্র থেকে মোট ৪০ টি বিভাগের ২৯২ টি বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা পাওয়া যায়। নবান্নের ওই আদেশনামার পর ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের এখন মাথায় হাত! চুক্তিভিত্তিক এই কর্মীদের কথা মাথায় রেখে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ রাজ্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবে বলেও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই নিয়ে সমাজ মাধ্যমে নানান কথা চলছে। কেউ কেউ বলছেন পুনরায় স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই করে নিয়োগ করা দরকার। ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা টাকার বিনিময়ে নানান বেনিয়ম করছেন বলেও সমাজমাধ্যমে উঠে এসেছে।