• টুলুর ম্যানেজারের বাড়িতে রহস্যময় লাল ট্রলি! মঙ্গলকোটে ইফাজুলের বাড়িতে আর কী পেল পুলিশ?
    প্রতিদিন | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যোগসূত্র পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের। মঙ্গলকোটের আয়মাপাড়া গ্রামে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদানের ম্যানেজার ইফাজুল হকের বাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ। ইফাজুলের ঘরের তালা ভেঙে সেখান থেকে কয়েকটি ট্রাঙ্ক ও একটি লাল রঙের ট্রলির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। সেই সব ট্রাঙ্ক ও ট্রলির তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। টুলু মণ্ডলকে নিয়ে শোরগোলের মাঝে তিন দিন আগে মঙ্গলকোটের এই বাড়িতে এসেছিলেন ইফাজুল। গত শনিবার সকালে তিনি ডাক্তার দেখানোর নাম করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেননি। পুলিশের অনুমান, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। এই সব ট্রাঙ্ক ও ট্রলিতে টাকা বা সোনা ছিল কি না তা তল্লাশি করে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

    জানা গিয়েছে, শনিবার পৌনে একটা নাগাদ আয়মাপাড়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী আনিসুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায় মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। সাড়া না পেয়ে পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকেন পুলিশ কর্মীরা। এরপর ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে তোলেন পরিবারের সদস্যদের। আনিসুরের মেজ ছেলে ইফাজুল হক আগেই বাড়ির দু’টি ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। ওই ঘর দু’টির চাবি ইফাজুলের কাছেই রয়েছে। এই কথা শোনার পর পুলিশ ঘর দু’টির তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। সেখানেই মেলে একাধিক ট্রাঙ্ক ও ব্যাগ। সেগুলিতে তালা লাগানো ছিল। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশিতে তেমন কিছু মেলেনি। ঘর থেকে কোনও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না তা এখনও জানা যায়নি। শনিবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় ইফাজুল কিছু নিয়ে গিয়েছিলেন কি না তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়মাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অশীতিপর বৃদ্ধ আনিসুর রহমান চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের করনিক পদে চাকরি করতেন। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে মেজ ইফাজুল হক। পঞ্চাশোর্ধ ইফাজুল প্রায় ৬ বছর আগে টুলু মণ্ডলের কাছে কাজে যোগ দেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইফাজুলের দিদির শ্বশুরবাড়ি আউশগ্রামের কাঁটাটিকুরি গ্রামে। দিদির শ্বশুরবাড়ির দূর সম্পর্কের আত্মীয় টুলু মণ্ডল। সেই সূত্রে টুলু মণ্ডলের কাছে কাজের সুযোগ পান ইফাজুল হক। আগে চাষাবাদের কাজ করতেন তিনি। পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। সিউরিতে ফ্ল্যাট কিনে সেখানেই সপরিবারে থাকতেন তিনি।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একমাত্র পরবের সময় বা কোনও বিপদের সময় বাড়িতে আসতেন ইফাজুল। ইফাজুলের ছোট ভাই মোজাফ্ফর হোসেন বোলপুরে একটি হাই মাদ্রাসায় চাকরি করেন। সেখানেই থাকেন। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন বড় দাদা নজরুল হক। বাড়ির প্রতি দায়দায়িত্ব তেমন না থাকলেও পৈতৃক জমির ধানের ভাগ বছর বছর বুঝে নিয়ে যেতেন ইফাজুল। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। পৈতৃক বাড়ির দু’টি ঘরে তিনি তালা লাগিয়ে চলে যান।

    বাবা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, তিনদিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন ইফাজুল। শনিবার ভোরেই ডাক্তার দেখানোর নাম করে বাড়ি থেকে চলে যান। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। টুলু মণ্ডল কাণ্ডে ছেলের নাম জড়ানোয় এবং বাড়িতে তল্লাশির ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, “এযাবৎ সন্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করেছি। কখনও কোনও অপরাধমূলক কাজ করিনি। আমার শেষ বয়সে বাড়িতে পুলিশের রেড দেখতে হল! এটা দুর্ভাগ্যের।”

    উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বীরভূমের মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে নিয়ে শুরু হয় চর্চা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টুলুর বিপুল সম্পত্তির হিসাব দেন। এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁর অবৈধ সম্পত্তির খোঁজে জায়গায় জায়গায় হানা দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। এবার তাঁর ম্যানেজারের বাড়িতেও পৌঁছে গেলেন তাঁরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)