‘রাস্তাটা কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়’, ১ সেপ্টেম্বর থেকে দিতে হবে জরিমানা সতর্কতা পুরমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
বাড়ি তৈরির জন্য সারা বছর রাস্তা আটকে বালি, পাথর, ইটের মতো নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা যাবে না। এবার থেকে তা করলে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। রবিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট সতর্কবার্তা, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে এই নতুন নিয়ম এবং জরিমানার ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাড়ির কাজ করতে গিয়ে রাস্তায় বালি, পাথর, ইট, স্টোনচিপস ফেলে রাখা হয়েছে। তাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। আবার যানবাহনের চলাফেরার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়। তার জেরে পথ দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে। এই কারণে এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘বাড়ি বানানো হচ্ছে আর রাস্তার মধ্যে পাথর, বালি, ইট ফেলে রাখছে এটা হবে না। আমরা জরিমানা নেব। বাড়ি করছেন যখন ভিতরে এই সমস্ত জিনিস রাখুন। রাস্তাটা আপনার নিজস্ব সম্পত্তি নয়।’
গৃহনির্মাণ যাঁরা করেন তাঁদের কাছে এটা একপ্রকার হুঁশিয়ারিও বটে। কারণ এদিন পুরমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে সর্বজনীন যাতায়াতের পথ আটকে রাখা কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। অনেক সময়ই প্রোমোটাররা আবাসন গড়ে তোলার জন্য নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় ফেলে রাখেন। তাঁরা এবার থেকে তা আর করতে পারবেন না। পুরমন্ত্রী এবার সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘এটা আর চলবে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা জরিমানা আদায় শুরু করব। আমি ৩০ বছর পর বাড়ি বানাব। আর এখন সেই জমিতে ঝোপঝাড়, নালা-নর্দমা, পুকুর থাকবে সেটা হবে না। বাড়ি, বাড়ির সামনের জায়গা বা বাগান পরিষ্কার করা আপনার দায়িত্ব। আর ফাঁকা জমি পরিষ্কার রাখাও আপনার দায়িত্ব। আপনার ফাঁকা জমির জন্য বাড়ির লোক ডেঙ্গিতে ভুগবে সেটা হবে না।’
তাছাড়া শুধু নির্মাণসামগ্রী বা ফাঁকা জমিই নয়, শহরের যানজট এবং পথচারীদের হাঁটার পথ সুগম করতে একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই বেআইনি পার্কিং নিয়ে শহরের রাস্তায় সারপ্রাইজ ভিজিট করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে অগ্নিমিত্রার সতর্কবার্তা, ‘ফুটপাতে বেআইনিভাবে গাড়ি বা মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে রাখলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। পার্কিং সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই একটি ডেডিকেটেড ‘স্মার্ট পার্কিং অ্যাপ’ আনছে। যেসব হকার গোটা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদের খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’