কাটল তিন মাসের উৎকণ্ঠা-অনিশ্চয়তা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ৫০ জন ইরানি শিখকে অবশেষে ভারতে ফেরাল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের তৎপরতায় শনিবার তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে দেশে ফেরানো হয়।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিবাদ বাধার পরেই ভারতীয় নাগরিকদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু করেছিল কেন্দ্র। সেই সময়ে ২৫টি ইরানি শিখ পরিবার তেহরান ছেড়ে বেরোতে পারলেও, বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় অনেকেই আটকে পড়েছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা তেহরানের গুরুদ্বার ভাই গঙ্গা সিং সভা-য় আশ্রয় নেন। পরে এপ্রিলের শেষের দিকে উত্তেজনা সামান্য কমতেই শিখ সম্প্রদায়ের বেশ কয়েক জন ইরান ছাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, গত ৫ মে তাঁরা যখন একটি ফ্লাইটে উঠতে যান, তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারত সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া তাঁদের ওই বিমানে উঠতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনার পরেই বিষয়টি বিদেশ মন্ত্রকের নজরে আনেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আরপি সিং। সমাজমাধ্যমে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘তেহরানের ভাই গঙ্গা সিং সভা গুরুদ্বারে আটকে পড়া শিখ পরিবারগুলিকে নিয়ে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন। ভারত সরকারের অনুমতি নেই, এই অজুহাত দেখিয়ে গত ৫ মে তাদের বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। বিদেশমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, উনি জরুরি ভিত্তিতে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুন। তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আটকে পড়াদের যেন নিরাপদে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।’
জয়শঙ্করের কাছে একই আর্জি জানিয়েছিলেন বিজেপির আর এক মুখপাত্র জয়বীর শেরগিলও। অবশেষে আটকে পড়া সেই সব ইরানি শিখ পরিবার দেশে ফেরার পরে জয়বীর বলেন, ‘৭০-১০০টি শিখ পরিবার এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইরানে বসবাস করে আসছেন। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) এবং বিদেশ মন্ত্রকের দৃষ্টিগোচর করার দু’ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করা শুরু করে সরকার। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ এবং সদিচ্ছার কারণেই ওই পরিবারগুলো নিরাপদে ভারতে ফিরতে পেরেছে।’
ইরান থেকে দিল্লিতে ফিরে শেরগিলকে ভিডিয়োবার্তায় ধন্যবাদ জানান সর্দার লাজপাল সিং আনন্দ। ইরানেই তাঁর জন্ম। লাজপাল বলেন, ‘আমি প্রথমেই ভাই জয়বীর শেরগিলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সাধ্যের বাইরে গিয়ে উনি আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ধন্যবাদ জানাই। তাঁর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
পরে বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘পশ্চিম এশিয়ার ভারতীয় মিশন এবং দূতাবাসগুলি নিয়মিত আটকে পড়া নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে নাগরিকদের সব রকম ভাবে সাহায্য করা হয়েছে।’ গত ৩০ জুলাই রাজ্যসভায় বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সীমান্ত দিয়ে প্রায় ২,৫৫৭ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে বের করে এনে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার ভারতীয় নাগরিক (শিক্ষার্থী, চিকিৎসক-পড়ুয়া, শ্রমিক এবং মৎস্যজীবী) ইরানে রয়েছেন।’