ঘণ্টার সফর মাত্র কয়েক মিনিটে! হলদি নদীতে ঝুলবে ৩ কিমির ফোল্ডিং ব্রিজ, স্বপ্নপূরণের পথে জেলাবাসী
News18 বাংলা | ০২ আগস্ট ২০২৬
: নন্দীগ্রাম ও হলদিয়া এই দুইটি জায়গাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে হলদি নদী। নন্দীগ্রাম হলদিয়ার মাঝে হলদি নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু রয়েছে। কিন্তু নন্দীগ্রাম ও হলদিয়া, দুই প্রান্তের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি হলদি নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ! নন্দীগ্রাম ও হলদিয়া সংযোগকারী এই ব্রিজকে নিয়ে বহুবার রাজনৈতিক এজেন্ডা বানিয়েছে শাসক-বিরোধী উভয় দলই! রাজ্যে পালা বদলের সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার সংযোগকারী সেতু নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে। নন্দীগ্রামের সেই আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এবার শুরু হল সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। হলদি নদীর দুই তীরবর্তী এই নন্দীগ্রাম এবং হলদিয়ার সাধারণ মানুষ ফেরি সার্ভিসে প্রতিদিন যাতায়াত করে। অন্যথায় তাদের ঘুরপথে আসতে হয় হলদিয়াতে। যার ফলে দীর্ঘ সময়ে ব্যয় হত। নন্দীগ্রাম হলদিয়ার সংযোগকারী ব্রিজ নির্মাণ প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতিতে জায়গা পায়। পূর্বতন সরকারের আমলে বহুবার এই ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবের রূপ দেখতে পাওয়া যায় নি এই ব্রিজ। অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতায় নন্দীগ্রামবাসীর বহু দিনের স্বপ্ন নন্দীগ্রাম-হলদিয়া ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প অবশেষে বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল।
হলদি নদীতে ব্রিজ নির্মাণের জন্য নিমতৌড়ির জেলা প্রশাসনিক ভবনে এই প্রকল্পের প্রথম সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের জন্য সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিখ্যাত সংস্থা RITES-কে। বৈঠকে উপস্থিত জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “সেতুটি নির্মাণের জন্য আপাতত তিন থেকে চারটি সম্ভাব্য স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে। স্থানগুলির ভৌগোলিক অবস্থান, নদীর নাব্যতা ও সংযোগকারী রাস্তার সুবিধা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকের আগেই এই প্রাথমিক সমীক্ষার খসড়া রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আশা করছে প্রশাসন।
প্রস্তাবিত এই সেতুর আনুমানিক দৈর্ঘ্য হতে চলেছে প্রায় তিন কিলোমিটার। নদীপথে জাহাজ ও বড় জলযান চলাচলের সুবিধার্থে একটি আধুনিক ‘ফোল্ডিং ব্রিজ’ বা ভাঁজ করা সেতু হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করে ব্রিজের চূড়ান্ত স্থান ও ব্লু-প্রিন্ট সিলমোহর পাবে বলে জানান হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী। এই সেতু তৈরি হলে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে যাতায়াতের সময় কয়েক ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র কয়েক মিনিটে নেমে আসবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পরিষেবা এবং সামগ্রিক জেলা অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আসবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক মহল।