• লাইসেন্সহীন হাতে মোটরবাইক, রেষারেষির মাশুল দিতে গিয়ে ঝরল তরতাজা প্রাণ! কবে ফুটবে চেতনা?
    News18 বাংলা | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • : গতির নেশায় ঝরছে তরতাজা প্রাণ, কবে সচেতন হবে নতুন প্রজন্ম! বর্তমানে অল্প বয়সী অনেক কিশোর-যুবকের কাছে মোটরবাইক যেন শুধু একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং সাহস, দাপট আর গতির প্রতীক হয়ে উঠছে। লাইসেন্সের বয়স না হওয়া সত্ত্বেও কিংবা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেকেই বাইক নিয়ে রাস্তায় নামছে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া, দ্রুতগতিতে ওভারটেক করা, স্টান্ট করা বা রেষারেষি—এসব যেন ক্রমশ এক বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। আর তারই করুণ পরিণতি দেখা যাচ্ছে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায়।

    স্বরূপনগরের দোবিলা এলাকার শনিবার রাতে ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। দুটি বাইকে পাঁচজন যুবক রেষারেষি করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ১৭ বছরের আলামিন মণ্ডল। আহত হয়েছেন আরও চারজন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কয়েক মুহূর্তের বেপরোয়া গতির মূল্য দিতে হল একটি তরতাজা প্রাণকে, আর একাধিক পরিবারকে ঠেলে দিল গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

    অনেকেরই মতে, এই প্রবণতার পিছনে রয়েছে সচেতনতার অভাব, সামাজিক মাধ্যমে স্টান্ট ভিডিওর প্রভাব, বন্ধুদের মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করার মানসিকতা এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অতিরিক্ত প্রশ্রয়। অনেক অভিভাবকই সন্তানের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অল্প বয়সেই তাদের হাতে শক্তিশালী মোটরবাইক তুলে দিচ্ছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও সংযমের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। শুধু চালকই নন, এই বেপরোয়া বাইক চালানোর শিকার হচ্ছেন নিরীহ পথচারীরাও।

    স্বরূপনগরের ঘটনাতেও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত হন। অর্থাৎ একজনের অসচেতনতা মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শুধু পুলিশের নজরদারি বাড়ালেই হবে না। পরিবার, বিদ্যালয়, প্রশাসন এবং সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে কিশোরদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নাবালকদের হাতে মোটরবাইক না দেওয়া, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো রুখে দেওয়া এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো এখন সময়ের দাবি।
  • Link to this news (News18 বাংলা)