• টুলুকাণ্ডের পরেই তৎপর প্রশাসন, বীরভূমের ৮টি পাথর খাদান বন্ধের নোটিস!
    প্রতিদিন | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • বীরভূমে (Birbhum) বালি ও পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিশাল সাম্রাজ্যের হদিশ পেয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। আর কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে? সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অবৈধ পাথর খাদান টুলু চালাত বলে অভিযোগ। টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরই জেলার অবৈধ খাদানগুলির দিকে নজর দিয়েছে প্রশাসন। একের পর এক পাথর খাদান বন্ধ করার নোটিস জারি হতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলা প্রশাসন শনিবার আটটি অবৈধ খাদান বন্ধের নোটিস করেছে।

    মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। টুলুর আত্মীয় আপেল মোর্তাজার পাথর খাদান রয়েছে সেখানে। বন্ধের নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ করিবুল, মনোজ টুডু, সারতাজ মোল্লা, শুভধন টুডু, সুনীল সোরেন জেলার ব্যবসায়ী মহলেও টুলু পরিচিত বলে খবর। ওইসব ব্যক্তিদের খাদানগুলিও বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। গত মাসেও মহম্মদবাজার এলাকায় ন’টি খাদানে একই ধরনের নোটিস জারি করা হয়েছিল। অবৈধ খাদান বন্ধের জন্য অভিযানও চালানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে।

    পাথর ব্যবসার ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডলের বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের হদিশ পেতে জেলা পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের নজর এখন টুলুর আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং মূল ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির দিকে। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া টুলুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে খুব শীঘ্রই মহম্মদবাজার থানার সোঁতশাল এলাকায় অবস্থিত টুলু মণ্ডলের মূল অফিসে ফের বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে।

    শনিবার মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের একটি পার্কিং এলাকা থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ সিএফটি (কিউবিক ফুট) পাথর বাজেয়াপ্ত করে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। প্রশাসনের দাবি, ওই পাথর বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক পাথর ব্যবসায়ীর আটটি অবৈধ খাদান বন্ধ করার নোটিশও জারি করা হয়েছে। টুলু মণ্ডলের ভাগ্নে আপেল মোর্তাজার বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। হানার পরেই তার পাথর খাদানে বন্ধেরও নোটিস টাঙানো হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)