নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। সেই আর মাধবন এবং বিবেক ওবেরয়কে পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন রাজ ঠাকরে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বলছেন, তাঁরা যদি দেশকে এত ভালোবাসেন, মোদি সরকার যদি ভারতে সমস্ত কিছু এত ভাল করে দিয়েছে তাহলে তাঁরা দুবাইয়ে বসবাস করেন কেন? এমএনএস সভাপতি অবশ্য একইসঙ্গে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে যেভাবে অপভাষা ব্যবহার হচ্ছে সেটা মোটেই কাম্য নয়।
মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ছাত্র সংগঠনের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ বলেন, দেশের শিল্পপতিরা সব ব্যাগপত্তর গুছিয়ে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তোপ দাগেন দুই বলি তারকাকেও। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “বিবেক ওবেরয় মোদিকে নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন, নিজে মোদির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, কিন্তু তিনি থাকেন দুবাইতে। আর মাধবন, তিনিও মোদির প্রশংসা করেন, তিনি কোথায় থাকেন? দুবাইতে।”
এখানেই শেষ নয়। আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রাজ বলেন, “যদি আপনারা ভারতকে এতই ভালোবাসেন, যদি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভালোবাসেন, যদি আপনারা বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের বিকাশ ঘটাচ্ছেন তাহলে বিদেশে পড়ে রয়েছেন কেন? পরিবার নিয়ে দুবাইয়ে থাকেন কেন?” রাজের স্পষ্ট কথা, “এরা এখানে আসবে, ‘ধুরন্ধরে’র মতো সরকারের ‘ধামাধরা’ ছবিতে কাজ করবে তারপর আবার দুবাইয়ে ফিরে যাবে।” উল্লেখ্য, মাধবন জানিয়েছিলেন ছেলের সাঁতার কেরিয়ারের সুযোগসুবিধার জন্যই দুবাইয়ে চলে গিয়েছেন তিনি। বিবেক ওবেরয়ও ব্যবসার কারণে পাড়ি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নিটের প্রশ্নফাঁস এবং সেই নিয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রথমে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মাধবন। বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মাধবনের অফিসের দরজায় ‘নিট ফর সেল’ লেখা পোস্টার ঝোলায় পড়ুয়ারা। পড়ে ‘নিখোঁজ’ পোস্টারও। উত্তরোত্তর কটাক্ষ, সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেশ মুখ খোলেন মাধবন। অতীতে ‘রং দে বাসন্তী’, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন আর মাধবন। যে ছবিতে শিক্ষার্থীদের বৈপ্লবিক সত্ত্বা, অন্যায়ের প্রতিবাদের কথা ফুটে উঠেছে। বাস্তবে মোদির প্রশংসা ছাড়া সেরকম কিছু শোনা যায় না ‘ম্যাডি’র মুখে।