• রাজ্যে বেসরকারি বি.এড কলেজের নামে রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে, রিপোর্ট চেয়ে তোপ কলকাতা হাইকোর্টের
    আজ তক | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • রাজ্যে বেসরকারি বি.এড কলেজের নামে রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কলেজগুলো ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার মান নিয়ে আদৌ কতটা চিন্তিত সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট।  

    অভিযোগ, বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার প্রায় বছর খানেক পরেও নেওয়া হচ্ছে ভর্তি। এদিকে প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০০ দিনের ক্লাস না হওয়ার জন্য তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় বসতে দিচ্ছে না। এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। তদন্ত করে আগামী পয়লা অক্টোবর আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে। ইতিমধ্যে যে ছাত্র ছাত্রীরা প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসতে পারছেন না তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তাদের ভবিষ্যত না নষ্ট করা হয়।

    বিচারপতি সিনহা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কীসের জন্য টাকা দিচ্ছে ছাত্র ছাত্রীরা? টাকা দিয়ে কোর্স করবে তারপর চাকরি পাবেনা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে। এই তো অবস্থা? সেমিস্টার শুরু হয়েছে গত বছর জুলাই মাসে ।আর ছাত্র ছাত্রী ভর্তি চলছে এ বছর মে মাসে ও? শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭৫% সম্পন্ন হয়ে গেছে তারপর অগাস্ট মাসের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন! বিশ্ববিদ্যালয়ের, এনসিটিই এর কোন রকম নজরদারির ব্যাবস্থা নেই!

    উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে দুজন পরীক্ষার্থী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। কবি গুরু নোবেল সেন্টেনারি কলেজের ২০২৫ -২৭ বিএড এর ছাত্র তাঁরা। বাবা সাহেব আম্বেদকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে এই কলেজ। কিছু সিট ফাঁকা থাকায় চলতি বছরের মে মাসে ফের ভর্তি নেওয়া হয়।মামলাকারীরা  ২৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তার ফর্ম ফিলাপ করে ২০২৫-২৭ এর জন্য।এদিকে পরীক্ষায় বসার জন্য প্রার্থীকে অন্তত ১০০ দিনের ক্লাস করা বাধ্যতা মুলক।প্রার্থীরা মে মাসে ভর্তি হয়েছেন ফলে তাদের একশো দিনের ক্লাস হয়নি। সেই জন্য মামলাকারীদের আর্জি ছিল আপাতত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হোক।

    কলেজের বক্তব্য, অতিরিক্ত ক্লাস এদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১০০ দিনের ক্লাস হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর বক্তব্য ছাত্ররা জানতো তাদের ১০০ দিনের ক্লাস হবেনা। জেনেই ভর্তি হয়েছে।তাদের পরের বার পরীক্ষা দেওয়া উচিত। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বক্তব্য, "নিয়মিত নজরদারি  হয়না। একাডেমিক সেশনের ৭৫ % হয়ে যাওয়ার পর এরা ভর্তি হয় কিভাবে?  কলেজ অনলাইন এডিমিশন চালিয়ে গেছে।"

    কলেজের বক্তব্য, "শিক্ষকদের স্যালারি দিতে পারবে না ভর্তি না নিলে।" বিচারপতি বলেন, "এর থেকেই বোঝা যায় কলেজ মোটেও এই ছাত্রদের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখে না ।পড়ার মান কতটা ভালো সে নিয়ে সন্দেহ আছে।"

    মামলাকারীরা আর্জি জানান ,  অগাস্ট মাসের পরীক্ষা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু কলেজের আপত্তির কারণে বিচারপতি জানিয়েছেন ,"পরীক্ষা আপাতত চলবে। তবে এই ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়  আলাদা করে ব্যবস্থা করুক।"

    - মানস নস্কর

     
  • Link to this news (আজ তক)