রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ডিম থেরাপি চলছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি ইস্যুতে বিদ্ধ তৃণমূলের নেতারা অনেকেই জেলে, অনেকেই পলাতক। অভিযুক্তদের ঘিরে ধরে ডিম মারা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। রাস্তায় ঘিরে ধরে তৃণমূল নেতাদের কার্যত ডিম দিয়ে স্নানও করানো হচ্ছে! এবার ডিম থেরাপি নিয়ে নিজের দলের কর্মীদের একাংশকেই সতর্ক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অভিমুখ বদলাতে সময় লাগবে না।” তোলাবাজি যে এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়নি, সেই কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সম্পাদক।
আজ, শনিবার রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে ‘উদ্যমী সমাগম’ নামক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই রাজ্যের পালাবদল ও নতুন সরকারের আমলে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। তৃণমূল আমলে সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি দেখা গিয়েছে। পালাবদলে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সময়ে শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, সেই হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারের তরফে করা হয়েছে। দুর্নীতি-তোলাবাজি-কাটমানি ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্সে’র বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সমস্ত কিছুর সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আমি যদি আমার দলের প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের বলি যে রাজ্যের সব জায়গা থেকে তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তাহলে ভুল বলা হবে। বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে। আসলে একটা বিশেষ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে, একটা সিন্ডিকেট রাজ তৈরি হয়েছে। শুধু ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেই যে সমস্ত কিছু রাতারাতি বদলে যাবে, তেমনটা নয়।” কিছু মানুষ নতুন করে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপিতে এসে। তাঁদেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শমীক।
এদিন সন্ধ্যায় রাজারহাট-নিউটাউনে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনে উপস্থিত হন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেও দলীয় কর্মীদের একাংশকে বার্তা দিয়েছেন তিনি। দুর্নীতি-তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতে থাকলে বিজেপির পক্ষে গ্রাফ যত তাড়াতাড়ি উপরে উঠেছে, তত দ্রুত গ্রাফ নিচে নামবে। সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।