• ছেলে বিদেশে জানত পরিবার, দু’বছর পর দেশের কারখানার নিচে মিলল কঙ্কাল, স্ত্রীর পরকীয়ার পরিণতি?
    প্রতিদিন | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • এ যেন বাস্তবের দৃশ্যম ! হিন্দি সিনেমার দৃশ্যর মতোই, ২ বছর আগে স্বামীকে খুন করে ১২ ফুটের গর্তে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ স্ত্রী, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ও তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধে। গর্তে দেহ পুঁতে ১ ফুটের সিমেন্টের ঢালাই দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বধূ পরিবারকে জানিয়েছিলেন স্বামী কর্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছে। কাজের চাপে তাঁর সঙ্গে বেশি কথা বলা সম্ভব হয় না।

    মৃতের নাম জিগনেশ মাভাদিয়া। তিনি গুজরাটের জামনগরের বাসিন্দা। বিগত প্রায় ২ বছর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। মৃতের স্ত্রী পৃথ্বী সকলকে জানিয়েছিলেন, জিগনেশ কর্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন। কাজের প্রচণ্ড চাপ ও সংস্থার পলিসির দরুণ তাঁদের বেশি কথা হয় না। সেই কথা মেনেও নিয়েছিল জিগনেশের পরিবার। কিছুদিন আগে মৃতের এক আত্মীয় অস্ট্রেলিয়া ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। জিগনেশ কোথায় থাকেন সেই ঠিকানা জানতে চান। তখনই বিপাকে পড়েন যুবতী। বিভিন্ন বাহানায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই সন্দেহ হয় পরিবারে।

    ২৬ জুলাই থানায় দাদার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ জানান জিগনেশের ভাই। তদন্তে নেমে পুলিশ পৃথ্বী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। পৃথ্বীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলে। সেই সূত্র ধরে জামনগরের একটি কারখানার নিচ থেকে জিগনেশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী পৃথ্বী, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক নীলেশ কাছাতিয়া ও তাঁর বন্ধু বলবীর বর্মাকে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৩১ মে রাতে জিগনেশকে পার্টির নামে মদে বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হয়। জামনগরের সহকারী পুলিশ সুপার প্রতিভা জানান, “সায়ানাইড মেশানো মদ পান করিয়ে জগনিশকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর দেহ ১২ ফুট নিচ গর্তে পুঁতে ঢালাই করা দেওয়া হয়।” ওই গর্ত থেকে একটি কঙ্কালের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার খুন, প্রমাণ লোপাট ও অন্যান্য অপরাধের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)