রাতারাতি কোটিপতি দিনমজুর, অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি টাকা ঢুকতেই উড়েছে ঘুম
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ আগস্ট ২০২৬
সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। স্বামী জরির কাজ করেন। সেখান থেকে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই সংসার চলে কাশ্মীরা শেখদের। অভাব-অনটনের সংসারে লাখ টাকাই তাঁদের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু কাশ্মীরার সেই লাখ টাকার স্বপ্ন এখন বাস্তব হয়েছে। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতেই আতঙ্কে ঘুম উড়েছে কাশ্মীরা ও তাঁর পরিবারের সদ্যদের। পাসবুক আপডেট করতে গিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেখে চক্ষু চড়কগাছ কাশ্মীরা শেখের। রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেছেন ১০০ কোটি টাকার মালিক। যা দেখে তিনি অবাক তো হয়েছেনই, সেই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরেছে একরাশ প্রশ্ন।
কাশ্মীরা শেখ ও তাঁর স্বামী দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির কুন্দখালি গ্রামের কীর্তনখোলা এলাকার বাসিন্দা। স্বামী জরির কাজ করে যেটুকু রোজগার করেন, তা দিয়েও তাঁদের সংসার চলে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কাশ্মীরা রান্নার গ্যাস বুকিং করেছিলেন। কিন্তু সেই লেনদেনের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঠিকমতো ঢুকেছে কি না, তাই পাসবুক আপডেট করাতে তিনি ব্যাঙ্কে যান।
ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবুক আপডেট করতেই কাশ্মীরা চমকে ওঠেন। তিনি জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। গোটা ঘটনায় পরিবারে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কাশ্মীরা তড়িঘড়ি ব্যাঙ্কে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানান। অভিযোগ, ব্যাঙ্কে গিয়ে গোটা ঘটনাটি জানানোর পরেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেননি। বরং উল্টে ব্যাঙ্ক থেকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আপাতত তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাশ্মীরা ও তাঁর পরিবার নিজেদের কষ্টে অর্জিত জমানো টাকাও তুলতে পারছেন না। দিনমজুর পরিবারটি আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাশ্মীরার পরিবারের দাবি, দ্রুত যাতে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। যাতে তাঁরা ফের নিজেদের জমানো টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলতে পারেন।
তবে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ টাকা কাশ্মীরাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকল, তা ভেবে তাঁরা কুলকিনারা পারছেন না। কোনও প্রযুক্তিগত ক্রুটির কারণে নাকি এর পিছনে কোনও সাইবার জালিয়াতির যোগ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কবে গোটা সমস্যা মিটবে? কবে ফের তাঁরা নিজেদের উপার্জিত অর্থ তুলতে পারবেন, সেই নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরারা।