• মাটির এই চালাঘর দেখে ভয়ে কাঁপত ইংরেজরা, ভেতরে কীভাবে চলত ব্রিটিশ তাড়ানোর ছক? জানুন
    News18 বাংলা | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের দেশছাড়া করতে তখন চারিদিকে গর্জে উঠছে বাংলার যুবসমাজ। লক্ষ্য একটাই, মাতৃভূমিকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করা। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার তরুণ প্রজন্মও সেই স্বাধীনতা সংগ্রামে পিছিয়ে ছিল না। বাংলা ও ওড়িশা সীমানায় অবস্থিত প্রান্তিক এলাকা দাঁতনে আর্ত মানুষের সেবা, শরীরচর্চা এবং পঠনপাঠনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে শুরু হয় এক নতুন পথচলা। বাঁশ ও মাটির চালাঘরে গড়ে ওঠা সেই উদ্যোগই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।

    ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় একটি সাধারণ সভার পর একাধিক আলোচনার মাধ্যমে দাঁতনে একটি সমাজ সেবামূলক ক্লাব ও পাঠাগার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনার সূত্র ধরেই ১৯২৬ সালের জুন মাসে আত্মপ্রকাশ করে ‘দাঁতন সমাজ সেবক সমিতি ও সাধারণ পাঠাগার’। এই প্রতিষ্ঠানের মূলত দুটি শাখা ছিল, একটির মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের কল্যাণে সমাজসেবামূলক কাজ পরিচালিত হত এবং অন্যটি ছিল পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার। এই পাঠাগারের প্রথম পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অনেকেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    বাইরে থেকে দেখলে এটি কেবল সাধারণ মানুষের শরীরচর্চা বা বই পড়ার জায়গা মনে হলেও, এর আড়ালে চলত ব্রিটিশদের তাড়ানোর নানা গোপন ফন্দি। ব্রিটিশ পুলিশ ও শাসকদের কড়া নজরকে ধুলো দিয়ে এই ব্যায়ামাগার ও পাঠাগারেই বসত বিপ্লবীদের গোপন বৈঠক। তৎকালীন সময়ে চরমপন্থী এবং নরমপন্থী- উভয় মতাদর্শের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাই এখানে মিলিত হয়ে আন্দোলন নিয়ে আলোচনা চালাতেন। ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নীরব অথচ অত্যন্ত সক্রিয় সাক্ষী হিসেবে এই পাঠাগারের গুরুত্ব তৎকালীন সময়ে ছিল অপরিসীম।

    প্রাচীন নথি থেকে এই পাঠাগারের সঙ্গে অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর নিবিড় যোগাযোগের কথা জানা যায়। পাঠাগারের পঁচিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পেরে তিনি একটি চিঠিতে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। সময়ের নিয়মে আড়েবহরে অনেকটাই বেড়েছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রায় শতবর্ষ ছুঁতে চলা দাঁতনের এই লাইব্রেরি বর্তমানে সরকার অধীনস্থ। হাজার হাজার বইয়ের সম্ভার নিয়ে আজও মানুষের জ্ঞানপিপাসা মেটাচ্ছে। অবিভক্ত মেদিনীপুরের ইতিহাস ঘাটলে আজও জ্বলজ্বল করে দাঁতনের এই লাইব্রেরির নাম, যা দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনে এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় তৈরি করেছিল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)