• ৩০০ জনকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিলেন শুভেন্দু
    আজকাল | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • বিউ সরকার: পয়লা আগস্ট থেকেই দেশে শুরু হয়েছে ১৬তম জনগণনার কাজ। তারই মধ্যে নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

    উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০০ জন আবেদনকারীর হাতে এদিন নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শংসাপত্র তুলে দেন। 

    কেন্দ্র সরকার আগেই জানিয়েছিল, সিএএ-র আওতায় আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া মেনেই এদিন বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের নথি তুলে দেওয়া হয়। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্বের দাবি ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এদিনের অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের মানুষকে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে যাঁরা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার সিএএ-র বিরোধিতা করেছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। অথচ এই আইন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই প্রণীত হয়েছে, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেককে বোঝানো হয়েছিল সিএএ মানেই এনআরসি এবং আবেদন করলে রেশন, ভাতা বা পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। এই আশঙ্কায় বহু মানুষ আবেদন করতে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৪ সালে বিধি জারি করার পর নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এখন সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

    তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে এই আইনে। দেশভাগের পর ধর্মীয় কারণে যাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার দাবির দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালে সিএএ কার্যকর করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সরকারি অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায়, যা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দেখা যেত না।
  • Link to this news (আজকাল)