আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোয়ার বিশ্ববিখ্যাত ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (EDM) উৎসব সানবার্ন এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। আগামী ১৬ অগস্ট মন্দারমণির সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন একটি বেসরকারি রিসর্টে বসতে চলেছে 'সানবার্ন রিলোড সানডাউনার'। স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ সপ্তাহান্তকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্ম, সঙ্গীতপ্রেমী এবং পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। গোয়ার পর এবার বাংলার সমুদ্রসৈকতেও আন্তর্জাতিক মানের ইডিএম ফেস্টিভ্যালের আমেজ উপভোগ করার সুযোগ মিলবে।
সমুদ্রের ঢেউ, সূর্যাস্তের মনোরম পরিবেশ, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, চোখধাঁধানো আলোর খেলা এবং একের পর এক ডিজের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে মন্দারমণি ১৬ অগস্ট পরিণত হবে এক বিশাল মিউজিক অ্যারেনায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসব শুরু হবে দুপুর ১২টা থেকে এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রায় ১০ ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে দর্শকদের জন্য থাকছে একাধিক লাইভ পারফরম্যান্স, বিচসাইড স্টেজ, বিশেষ লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎসবের অভিজ্ঞতা।
এবারের সানবার্ন রিলোড সানডাউনারে পারফর্ম করবেন দেশের জনপ্রিয় ইডিএম শিল্পীরা। মূল মঞ্চে থাকছেন ডিজে সারটেক, হুদিনি, অ্যান্টিম, কুণাল জি এবং ডিজে রুদ্র। পাশাপাশি বিচসাইড স্টেজে পারফর্ম করবেন ডিএনএ, দিবেশ, স্টিভ, কিছ, রিটজি এবং ট্যাট্রিক্স। ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক, হাউস, ট্রান্স এবং বাণিজ্যিক ইডিএম-এর সংমিশ্রণে দর্শকদের জন্য এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সাধারণ প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ১,৪৯৯ টাকা, আর প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য ৩,৯৯৯ টাকা। অনলাইনে অগ্রিম বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। আয়োজকদের মতে, সীমিত সংখ্যক টিকিট থাকায় আগেভাগেই বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস এবং সপ্তাহান্তের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে মন্দারমণি। এবারের দীর্ঘ ছুটিতে সেই ভিড় আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই বহু হোটেল ও রিসর্টে বুকিংয়ের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, এই উৎসবকে ঘিরে পর্যটনের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েক সপ্তাহ আগে অভিনেত্রী সানি লিওন মন্দারমণির সমুদ্রসৈকতে ফটোশুট করে সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মন্দারমণি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। এবার সেই একই সমুদ্রসৈকতে সানবার্নের মতো আন্তর্জাতিক মানের মিউজিক ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের ফলে বাংলার এই সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্রের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।
সানবার্ন শুধুমাত্র একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যাল নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। ২০০৭ সালে গোয়ার ভ্যাগাটর বিচে এই উৎসবের সূচনা হয়। তারপর থেকে বিশ্বের বহু জনপ্রিয় ডিজে ও সঙ্গীতশিল্পী এই মঞ্চে পারফর্ম করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোয়ার বাইরে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, পুনে, দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সানবার্নের আয়োজন শুরু হয়। এবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মন্দারমণি সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।
পর্যটন মহলের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের ক্ষেত্রে মন্দারমণি নতুন পরিচিতি পাবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও সঙ্গীতপ্রেমীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসতে পারেন। ফলে রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমুদ্রের ধারে সূর্যাস্তের আবহে লাইভ ইডিএম মিউজিক, নাচ, আলো এবং উৎসবের উন্মাদনা—সব মিলিয়ে ১৬ আগস্ট মন্দারমণি হয়ে উঠবে এক অনন্য বিনোদন কেন্দ্র। যারা স্বাধীনতা দিবসের লং উইকএন্ডে সমুদ্র ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে এই সানবার্ন ফেস্টিভ্যাল নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।
গোয়ার বিশ্বখ্যাত সানবার্নের সেই আন্তর্জাতিক আবহ, প্রাণবন্ত সঙ্গীত, আধুনিক মঞ্চসজ্জা এবং উৎসবের উচ্ছ্বাস এবার বাংলার মাটিতে। ফলে ১৬ অগস্ট মন্দারমণি শুধু সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের ইডিএম উৎসবের জন্যও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চলেছে। পর্যটন ও বিনোদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই আয়োজন, এমনটাই আশা করছেন আয়োজক থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।