‘নির্বাসিত’-এর ‘লজ্জা’ কাটিয়ে ‘ফেরা’ — ১৯ বছর পরে তিলোত্তমায় তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্র সদনে এক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশি এই লেখিকা। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একবার নয়, আপনি যখনই মনে করবেন, বার বার আসবেন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।’
২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশিত হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তুমুল অশান্তি শুরু হয়। সেই সময়ে বাংলার মসনদে বামফ্রন্ট সরকার। নিষিদ্ধ করা হয় ‘দ্বিখণ্ডিত’। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ‘বাধ্য’ হয়ে বাংলা ছাড়তে হয় তসলিমাকে।
বাম সরকারের পতনের পরে ১৫ বছর তৃণমূলের সরকার ছিল বাংলায়। তবে তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরার অনুমতি মেলেনি। তবে ফের বঙ্গ রাজনীতিতে পালাবদলের পরে বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই তসলিমার প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে।
এ দিনের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। এখন এখানে সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ সুরক্ষিত। সেই পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার সুযোগ রয়েছে, সকলের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। অত্যন্ত প্রিয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই বঙ্গভূমিতে এসেছেন। এটার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক্ স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত।’
প্রসঙ্গত এই সময়কে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে কলকাতায় ফেরা সম্পর্কে তসলিমা বলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য আমি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ভারতের নাগরিক নই। তা সত্ত্বেও একজন নির্যাতিত লেখকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন—এটি আমাকে স্পর্শ করেছে। আমার প্রত্যাশা, এই সরকার শুধু আমার নয়—সব লেখক, শিল্পী, নারী, সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের মানুষের অধিকার রক্ষা করবে।’
শুভেন্দুর সংযোজন, ‘এখানে ধমক চমক, দেখে নেবে, আটকে দেবো—এ সব অতীত হয়ে গিয়েছে। আমি এখানে আমন্ত্রিত নই। তিনি (তসলিমা নাসরিন) আসছেন শুনে আমি তাঁকে স্বাগত জানালাম। আমি শুধু মুখ্যমন্ত্রী নই, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরেরও মন্ত্রী। বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি দিয়ে স্বাগত জানালাম। পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে (তসলিমা নাসরিন) স্বাগত। আপনি লেখিকা, আপনার লেখা সবাই পড়েন। আপনার গুণগ্রাহীর সংখ্যা প্রচুর। পশ্চিমবঙ্গে যে ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, সেটা নিশ্চিত ভাবে আপনার অভিজ্ঞতায় আপনি দেখেছেন।’