ককরোচদের পরে অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের রেশ এখনও কাটেনি। এ বার ইথানল মিশ্রিত ই-২০ পেট্রলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। লাঠি খাওয়ার ভয় পায় না এমন ১০০ যুবককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শনিবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মিছিল করে যাব।’ সেখানে ই-২০ নীতির বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দেবেন তাঁরা।
পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোয় গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির পাশাপাশি মাইলেজ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বিষয়টা আরও গভীর বলে দাবি বিরোধীদের একাংশের। ইথানল ব্যবসায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই পুত্র থাকার কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নীতি নিয়ে আসতে চাইছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। এই আবহে ককরোচ জনতা পার্টির মতো আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। ককরোচদের মতোই অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছে।
এর মধ্যেই এ দিন কনস্টিটিউশন ক্লাবে ই-২০নীতির বিরুদ্ধে সরব হন কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, ভারত-আমেরিকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির জেরেই দেশে জোর করে ই-২০ নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেজরিওয়ালের কথায়, ‘যাতে আমেরিকাকে খুশি রাখা যায়।’ এ দিন মূলত তিনটি দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রথমত, পেট্রল পাম্পে গ্রাহকদের যেন সাধারণ পেট্রল অথবা ই২০ (E20) জ্বালানি—দু'টির মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, পেট্রলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, কমাতে হবে ইথানলের মূল্যও।
ইতিমধ্যেই দাবির স্বপক্ষে অনলাইনে সই সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেজরি। তিনি বলেন, ‘আমি সেই সব সইয়ের প্রিন্টআউট নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে (৪ অগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাব। লাঠি খাওয়ার ভয় পান না এমন ১০০ জন শুধু আমার সঙ্গে আসুন।’ যাঁরা এই মিছিলে সামিল হতে চান, তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ট্যা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল।
অন্য দিকে, সমাজকর্মী তহসিন পুনাওয়ালা দাবি করেছেন, ই-২০ নীতির বিরুদ্ধে মৌন মিছিল এবং অনশন কর্মসূচির করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই শনিবার সকালে তাঁকে গৃহবন্দি করে দিল্লি পুলিশ। নিজের বাড়ি থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োতে তিনি দেখান, বাড়ির বাইরে বহু পুলিশকর্মী, যার মধ্যে মহিলা পুলিশও রয়েছেন। কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। X-এ তিনি লিখেছেন, ‘দিল্লি পুলিশের গোটা একটি বাহিনী, মহিলা পুলিশ-সহ, আমাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। নীতিন গড়করি ইথানল ইস্যুতে ভয় পেয়ে গিয়েছেন।’
প্রশ্ন: ই-২০ (E20) কী?
উত্তর: ই-২০ হল এমন জ্বালানি, যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল মেশানো থাকে।
প্রশ্ন: কেন ই-২০ পেট্রলের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে?
উত্তর: আন্দোলনকারীদের দাবি, এই জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে, মাইলেজ কমে এবং সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ে।
প্রশ্ন: অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রধান দাবি কী?
উত্তর: তাঁর তিনটি দাবি— (১) সাধারণ পেট্রল ও ই-২০-এর মধ্যে গ্রাহকের পছন্দের সুযোগ, (২) পেট্রলের দাম কমানো এবং (৩) ইথানলের দাম কমানো।
প্রশ্ন: কবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন কেজরিওয়াল?
উত্তর: তিনি জানিয়েছেন, ৪ অগস্ট দুপুরে স্বাক্ষর-সম্বলিত ডেপুটেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল করবেন।
প্রশ্ন: ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ কী?
উত্তর: এটি ই-২০ নীতির বিরোধিতায় গড়ে ওঠা একটি নতুন সংগঠন, যা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে।
প্রশ্ন: তহসিন পুনাওয়ালার অভিযোগ কী?
উত্তর: তাঁর দাবি, ই-২০ বিরোধী মৌন মিছিল ও অনশন কর্মসূচির আগে দিল্লি পুলিশ কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁকে গৃহবন্দি করেছে।
প্রশ্ন: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ কী?
উত্তর: বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে নীতিন গড়করির পরিবারের যোগসূত্র থাকায় কেন্দ্র এই নীতি বাস্তবায়নে আগ্রহী। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।