বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি অসমের। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ভেসে গিয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং গবাদি পশু। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে চড়াইদেও, শিবসাগর ও জোরহাটের। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন অসমের একদল বধির ছেলেমেয়ে।
‘আপার অসম ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ডেফ’ সংস্থার তরফে শিবসাগরের বেটবাড়িতে ত্রাণ বিলির একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নিয়েছেন বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই ছেলেমেয়েরা। তাঁরা কানে শুনতে পান না। কিন্তু বন্যা দুর্গতদের আর্তনাদ পৌঁছে গিয়েছে তাঁদের হৃদয়ে।
তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড়, দুলিয়াজান, জোরহাট ও মাজুলি-সহ বিভিন্ন এলাকার বধির ছেলেমেয়েরা চাঁদা তুলে ত্রাণের ব্যবস্থা করেন। তাঁরা অসমের বেটবাড়িতে বন্যা কবলিত একাধিক পরিবারের হাতে বালতি, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ব্লিচিং পাউডার, ফ্লোর ক্লিনার, থালা, স্টিলের গ্লাস, ফেস মাস্ক, মশা তাড়ানোর ওষুধ, ডেটল, সাবান, বডি লোশন, দেশলাই, মোমবাতি, বিস্কুট, পানীয় জল ও চকোলেট তুলে দিয়েছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় এই সামগ্রীগুলি দুর্গতদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
মানবিক এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি বিজয় গোহাঁই এবং সহ-সভাপতি মানস প্রতিম পহুপছিংগিয়া-সহ বাকিরা। সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারায় কথা বললেও তাঁদের নিঃশব্দ সমাজসেবা প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিবন্ধকতা কখনই বাধা হতে পারে না।
অসমের একাধিক জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি, চাষের জমি ও গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চড়াইদেও, শিবসাগর এবং জোরহাট জেলায় বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
অসমের একদল বধির তরুণ-তরুণী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিলির কাজে অংশ নিয়েছেন।
‘আপার অসম ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ডেফ’-এর উদ্যোগে শিবসাগরের বেটবাড়িতে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।