এলোপাথাড়ি গুলি নয়। প্রথমে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে বেছে আলাদা করা হয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের। তার পরে কুলগামের কেল্লামের ইটভাটায় গুলি চালিয়েছিল জঙ্গিরা। পহেলগামের কায়দায় ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল দুই হিন্দু শ্রমিকের দেহ। শুক্রবার জঙ্গি হামলায় নিহত দীপক রাত্রে (২৪) ও ভূপেন্দ্র ভাইনার (২৮) পরিবারের এমন অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এক সোর্স মারফত জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জেনেছে, গুলি করার আগে শ্রমিকদের ধর্মীয় পরিচয় জেনেছিল জঙ্গিরা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কেল্লামের ওই ইটভাটায় কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। বেশিরভাগই পরিযায়ী। বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাঁরা কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরে। আচমকাই সেখানে ঢুকে পড়ে শ্রমিকদের ঘিরে ফেলে জঙ্গি। নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করে তাঁদের আলাদা করা হয়। দীপকের কাকা হলধর রাত্রে ANI-কে জানিয়েছেন, ইটভাটায় দু’জনই হিন্দু শ্রমিক ছিলেন। পরিচয় জানার পরেই তাঁদের গুলি করা হয়। হামলার পরেই এলাকা ছেড়ে পালায় জঙ্গিরা।
রক্তাক্ত দুই শ্রমিককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দীপককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ভূপেন্দ্রকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। শনিবার সকালে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত দুই শ্রমিকই ছত্তিসগড়ের বুন্দেলি গ্রামের বাসিন্দা। দীপকের কাকা হলধর রাত্রে বলেন, ‘একজন শ্রমিকককেও ওরা জাত-ধর্ম জিজ্ঞাসা করে গুলি করে। দেখুন, কী নৃশংসতা।’
তবে জঙ্গিরা সত্যিই পরিচয় বা ধর্ম জিজ্ঞাসা করে গুলি চালিয়েছিল কি না, তা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। যদিও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও একটি X পোস্টে দাবি করেছেন, দুই শ্রমিককে শনাক্ত করার পরই হত্যা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদীদের মানসিকতা যে কতটা নির্মম, তা এ থেকে স্পষ্ট।’ উল্লেখ্য, ২০২৫-এর ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ২৬ জনের। সেই হামলার পর বেঁচে ফেরা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও অভিযোগ করেছিলেন, গুলি চালানোর আগে নিহতদের ধর্ম জানতে চেয়েছিল জঙ্গিরা।
এদিকে, নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইও এই হামলার তীব্র নিন্দা করে মৃতদেহ দ্রুত রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।
১. কুলগামে জঙ্গি হামলাটি কোথায় হয়েছিল?
জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কেল্লাম এলাকার একটি ইটভাটায়।
২. হামলায় কারা নিহত হয়েছেন?
ছত্তিসগড়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিক—২৪ বছরের দীপক রাত্রে এবং ২৮ বছরের ভূপেন্দ্র ভাইনা।
৩. জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ, জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের নাম-পরিচয় ও ধর্ম জিজ্ঞাসা করে, তারপর দুই হিন্দু শ্রমিককে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
৪. এই অভিযোগ কি সরকার নিশ্চিত করেছে?
না। প্রশাসন এখনও সরকারি ভাবে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
৫. তদন্তে কী তথ্য সামনে এসেছে?
সূত্রের দাবি, এক স্থানীয় ও এক বিদেশি জঙ্গির যোগ থাকতে পারে। তদন্তকারীরা হামলার নেপথ্য খতিয়ে দেখছেন।
৬. এই হামলার সঙ্গে পহেলগাম হামলার মিল কোথায়?
২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার পরও বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছিলেন, জঙ্গিরা গুলি চালানোর আগে নিহতদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করেছিল। কুলগাম হামলাতেও নিহতদের পরিবারের তরফে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
৭. আহতদের কী হয়েছিল?
দীপক রাত্রে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যান। ভূপেন্দ্র ভাইনাকে প্রথমে অনন্তনাগ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এবং পরে শ্রীনগরের এসকেআইএমএস (SKIMS)-এ স্থানান্তরিত করা হলেও শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
৮. নিহতদের পরিবার কী সাহায্য পাচ্ছে?
জম্মু ও কাশ্মীর সরকার নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। ছত্তিসগড় সরকারও মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।