যেন সেলুলয়েডের ট্র্যাজিক হিরো! কাঠের শরীরে প্রাণ ঢেলে ৫ মাস ধরে ক্রেতার অপেক্ষায় 'উড-ম্যান'
News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
: শান্তিপুরের শিল্পী ব্রজেন শর্মা, যিনি পেশায় একজন ছুতোর মিস্ত্রি, প্রজাপতি, মৌমাছি, হরিণ, খরগোশ, ক্যাঙ্গারু এবং নান্দনিক ফুলদানির মতো অসাধারণ কাঠের শিল্পকর্ম তৈরি করেন। তাঁর এই শিল্পকর্মগুলি উপযুক্ত প্রচার ও বাজারের অভাবে এখনও প্রকৃত শিল্পপ্রেমীদের কাছে পৌঁছতে পারেনি। সরকারি নির্দেশ মেনে গাছ কাটায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকায় ছুতোরদের কাজ তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। এই সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে ব্রজেন শর্মা নানা ধরনের শৌখিন কাঠের শিল্পকর্ম তৈরি করেন। খাট, আলমারি বা ড্রেসিং টেবিল তৈরির পাশাপাশি তিনি ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী ও জীবজন্তুর অবিকল কাঠের প্রতিরূপ তৈরি করেন।
প্রায় পাঁচ মাস আগে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সামনে তাঁর আত্মীয় কানাই শর্মার দোকানে ব্রজেন শর্মার তৈরি শিল্পকর্মগুলি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। দোকানে আসা ক্রেতারা শিল্পকর্ম দেখে প্রশংসা করলেও এখনও পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। কানাই শর্মার দাবি, অধিকাংশ মানুষ শুধু কাঠের দাম বা শ্রমমূল্য বিচার করেন, শিল্পের মূল্যায়ন করেন না। এর ফলে শিল্পী যেমন তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন না, তেমনই নতুন কাজের অর্ডারও আসছে না।
ব্রজেন শর্মা অবশ্য এতে হতাশ নন। তাঁর বিশ্বাস, একদিন শিল্পের প্রকৃত কদরদারদের কাছে তাঁর সৃষ্টি পৌঁছবে। একটি শিল্পকর্ম তৈরি করতে কখনও একদিন, আবার কখনও এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। কাঠের দাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র শ্রমমূল্য হিসেবে তিনি এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই শিল্পকর্মগুলি বিক্রি করতে চান। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পালিশ করেও দেওয়া হয়।
ফুলের পাপড়ি, পাতা, কাণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর সূক্ষ্ম অবয়ব— প্রতিটি কাজেই ব্রজেন শর্মার নিখুঁত কারুকার্য ফুটে ওঠে। শিল্পী ও দোকানদার দুজনেরই দাবি, সরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা কিংবা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে এই শিল্প আরও বড় পরিসরে পৌঁছতে পারে। যদিও তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় নন, তবু মোবাইলে ছবি পাঠিয়ে যে কোনও নকশার কাঠের শিল্পকর্ম তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রজেন শর্মা।