• ১০ ঘণ্টারও বেশি, হাওড়া-বর্ধমান শাখায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল! চূড়ান্ত ভোগান্তিতে যাত্রীরা
    প্রতিদিন | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • হাওড়া শাখায় জোড়া দুর্ঘটনা। তার জেরে হাওড়া স্টেশন ঢোকার মুখে ও হাওড়া-বর্ধমান শাখায় ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা। চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। ১০ ঘণ্টারও বেশি পরে ট্রেন চললেও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বলেই সূত্রের খবর। অনেকেই ঘুরপথে বাস, অটো করে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছছেন। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে।

    শুক্রবার হাওড়া স্টেশনের সামনে ও বর্ধমান শাখায় দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমটি হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের ভদ্রেশ্বর স্টেশনে। সেখানে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন বেলাইন হয়ে যায়। সকাল ৮টা ১৫ নাগাদ ব্যান্ডেলের দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। আপ লাইন ও রিভার্স লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পরে। শুধু ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলছিল। সকালের ব্যস্ত সময়ে এই দুর্ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অফিস যাত্রীরা ঘুরপথে নিজেদের অফিসে পৌঁছন। দ্রুততার সঙ্গে ইঞ্জিন তোলার কাজ শুরু করে রেল।

    অন্যদিকে, হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে ওভারহেড তারে সমস্যা দেখা দেয়। শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ২টো নাগাদ আপ বর্ধমান স্পেশাল ট্রেনটি যখন হাওড়া স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল তখনই ওভারহেড তারে গোলযোগ দেখা দেয়। ট্রেনটি প্রায় একশো মিটার এগিয়ে রুট রিলে ইন্টারলকিং কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। ফলে হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে বেশ কয়েকটি লাইন ব্লক হয়ে যায়। আপ এবং ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। বেশকিছু লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটতে শুরু করে।

    রেল সূত্রে খবর, এক থেকে চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত ট্রেন চলাচল সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়। হাওড়া স্টেশনে লাইন ধরে হাঁটতে থাকা এক যাত্রী মামনি কর্মকার বললেন, ‘‘হাওড়া আসব বলে তারকেশ্বর-হাওড়া লোকালে উঠেছিলাম। হঠাৎ হাওড়া স্টেশনের আগে শুনলাম, তার ছিঁড়ে গিয়েছে। ট্রেনে প্রায় আধঘণ্টা বসে থেকে উপায় না দেখে রেল লাইন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম।’’

    এই জোড়া দুর্ঘটনায় প্রায় সারাদিন ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। এখন পরিষেবা মিললেও, সমস্যা চলছে বলে জানাচ্ছেন অনেক যাত্রী। তবে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি হাওড়ার সমস্যা নিয়ে জানান, ‘‘রেল ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ করলে দুপুর সাড়ে তিনটের নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’’
  • Link to this news (প্রতিদিন)