রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সংসদ চত্বরে নানাভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধীরা। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস। বাদল অধিবেশনে প্রায় প্রতিদিনই মকর দ্বারের সামনে একটি করে প্রণামী বাক্স বসাতে দেখা গিয়েছে বিরোধী শিবিরকে। তাতে আবার চাঁদাও দেন বিরোধী সাংসদরা। তবে সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল শুক্রবারের ‘নাটক’।
হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থেই শুক্রবার সংসদ চত্বরে একটি অভিনব নাটক মঞ্চস্থ হল। মকর দ্বারের সামনে ‘নুক্কড় নাটকে’র ধাঁচে রাম মন্দিরের চাঁদা চুরি কীভাবে হয়েছিল, সেটা দেখানোর চেষ্টা করল বিরোধীরা। ওই নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয় করলেন বিহারের পুর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব। অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদকেও দেখা যায় অন্যতম চরিত্র। অতিথি চরিত্রের মতো নাটকে দেখা গিয়েছে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও। ওই নাটকে দেখানো হয়, একজন ভণ্ড সাধু সব সাংসদদের কাছ থেকে ভগবানের নাম করে চাঁদা নিচ্ছেন। শেষে তিনি উধাও হয়ে যান প্রণামী বাক্সটি নিয়েই।
এই নাটক যখন মঞ্চস্থ হচ্ছিল তখন বিরোধী শিবিরের অন্য সাংসদরা বিভিন্ন রকমের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সঙ্গে সমানে চলছিল স্লোগান, “রাম রাম জপিয়ো রে, সব মাল হড়পিয়ো রে।” ওই নাটক শেষে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, “এটা একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। অযোধ্যায় কী হয়েছে, সেটা দেশবাসীর সামনে আমরা তুলে ধরতে চাই। আমরা চাই সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হোক।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং আবার পুরো বিষয়টাকেই সনাতন ধর্মের অপমান হিসাবে দেখছেন। তিনি বলছেন, “শুধু ভোটের জন্য এই বিরোধীরা সনাতন ধর্মের অপমান করছে। সনাতনীরা এর জবাব দেবেন।”
বস্তুত রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ইস্যুতে শুরু থেকেই বিজেপিকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে সমাজবাদী পার্টি। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে কংগ্রেসও। উদ্দেশ্য, আসন্ন উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ওই অনুদানচুরিকে ইস্যু হিসাবে তুলে ধরা। আসলে বিরোধীরা চাইছে, যেনতেন প্রকারে ইস্যুটিকে ভোট পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে।