সন্দেশখালির স্কুলে হচ্ছেটা কী! পরপর ৩০ ছাত্রীর শ্বাসকষ্ট, ভূতের তাসে তোলপাড়
News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
: উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ফুলমণি আদর্শ বিদ্যামন্দিরে একের পর এক নবম শ্রেণির ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আজ শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ করেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রী শ্বাসকষ্ট, হাত-পায়ে টান ধরা এবং অস্বাভাবিক শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন সন্দেশখালীর বিধায়ক সনৎ সর্দার, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তড়িঘড়ি কয়েকজন ছাত্রীদের নিজের গাড়িতে করে নিয়ে পৌঁছন হাসপাতালে।
বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ, শুধুমাত্র নবম শ্রেণির ছাত্রীরাই এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কোনও ছাত্র অসুস্থ হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পর থেকেই একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন স্থানীয় রাজবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল।
এই ঘটনার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে ‘ভূতে ধরেছে’ বলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য কাউন্সিল সদস্য প্রদীপ্ত সরকার জানান, ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃত বলে দেখার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, কোনও রাসায়নিক গ্যাসের প্রভাব, খাবারজনিত সমস্যা বা অন্য কোনও পরিবেশগত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, একজনের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক আতঙ্ক অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে গণ-মানসিক প্রতিক্রিয়া (Mass Psychogenic Illness)-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, মোট ৩২ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে দু’জনকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ছাত্রীদের মধ্যে সম্ভবত প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনাগুলি ঘটছে, সেখানে কয়েক বছর আগে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষকদেরও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থার উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।