আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমে বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নিজামউদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে ফের বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। এবার সিউড়ি থানার অন্তর্গত চুড়িপাড়া এলাকায় আপেল মর্তুজার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আপেল মর্তুজা টুলু মণ্ডলের নিকট আত্মীয়। এর আগে মহম্মদবাজারে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। পরে টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নিজামউদ্দিনের নিজস্ব বাসভবন দালিয়া ভবনেও দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হয়।
সেই অভিযানের পর এবার তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতেও পৌঁছেছে পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, টুলু মণ্ডলের বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই একের পর এক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ বা সংরক্ষিত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য ও সূত্রের ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
সেই সূত্র ধরেই এবার সিউড়ির চুড়িপাড়ায় আপেল মর্তুজার বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে এই তল্লাশি অভিযানে কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আপেল মর্তুজার বাড়িতে চলা এই অভিযানে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।
উল্লেখ্য, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার বীরভূম পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা নগদ এবং ২৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আরও ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ ভরি সোনা, ৪০০ গ্রাম রূপো এবং ২৩ গ্রাম প্লাটিনাম।
তাঁর দাবি, পুলিশের জেরায় মিনার জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া অর্থের মালিক মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল, যিনি বর্তমানে পলাতক। ভোটের ফল ঘোষণার পরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, কম্পিউটার, পেনড্রাইভ, সিপিইউ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিও উদ্ধার হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত ২১টি সম্পত্তি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রোল পাম্প, একটি পার্কিং এলাকা-সহ মোট প্রায় ৩০০ বিঘা জমি। আইন অনুযায়ী সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ২৪২টি যানবাহন, যার মধ্যে ট্রাক, ডাম্পার, অডি, বিএমডব্লিউ-সহ বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলি নিলামে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে বছরে মাত্র ৬০-৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত। অথচ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসেই ওই খাত থেকে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে, যা বর্তমানে ১০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তাঁর দাবি।