বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল পলাতক। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। এর মধ্যেই জানা গেল, দুর্গাপুরে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে তাঁর সংস্থা। আপাতদৃষ্টিতে দু’টি আলাদা ঘটনা মনে হলেও, বাস্তবে এর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
ঘটনা কী? টুলু মণ্ডল পলাতক, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।
দুর্গাপুরে কী কাজ পেয়েছিল? প্রায় ২২ কোটি টাকায় ৩.৬ কিমি রাস্তা তৈরির বরাত।
কবে বরাত? ২০২৪ সালের এপ্রিলে, আট মাসে কাজ শেষের কথা।
কাজের অবস্থা? ১৫ মাস পরেও রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ? রাস্তা ভেঙে গর্ত ও জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
আর কোথায় কাজ? আইমা গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকার পেভার ব্লকের রাস্তার কাজ।
টুলু পলাতক হলে কাজ চলবে কী ভাবে? পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি পাওয়া ব্যক্তি কাজ দেখছেন বলে এডিডিএ-র দাবি।
কেন তল্লাশি? আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ৫০ কোটির বেশি টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর তল্লাশি জোরদার।
টুলুর সংস্থার নাম ‘মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড’। দুর্গাপুর পুরসভার ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাতুড়িয়া-অঙ্গদপুর শিল্পতালুকে প্রায় ২২ কোটি টাকায় একটি রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল এই সংস্থা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে অভিযোগ।
আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থা (এডিডিএ)-র তরফে অনলাইন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৪-এর এপ্রিল মাসে এই কাজের বরাত দেওয়া হয়। প্রায় ৩.৬ কিলোমিটার রাস্তা আট মাসের মধ্যে তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু বরাত দেওয়ার পরে ১৫ মাস কেটে গেলেও কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।
রাস্তায় ব্যালাস্ট ও স্টোন ডাস্টের মিশ্রণ ফেলে তার উপরে রোড রোলার চালানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেই কাজ থমকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বর্ষায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যালাস্ট ও স্টোন ডাস্টের মিশ্রণ সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। তাতে জল জমে ভয়াবহ পরিস্থিতি। যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুধু রাতুড়িয়া-অঙ্গদপুর শিল্পতালুক নয়, কাঁকসা ব্লকের আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের আইমা গ্রামেও প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল টুলু মণ্ডলের সংস্থা। সেই কাজও বর্তমানে বন্ধ বলে জানা গিয়েছে।
টুলু মণ্ডল এখন পুলিশের খাতায় ফেরার। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সংস্থার কাজ কী ভাবে এগোবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘টুলু মণ্ডল দুর্গাপুরে রাস্তা তৈরির কাজ পেয়েছেন, সেটাই জানা ছিল না। এখন তিনি ফেরার। পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করলে শ্রীঘরেই যেতে হবে।’ রাস্তার কাজ কী ভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে তিনি এডিডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে এডিডিএ-র এক আধিকারিকের বক্তব্য, টুলু ফেরার থাকলেও রাস্তার কাজ শেষ করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাঁর কথায়, ‘টুলু মণ্ডল একজনকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছেন। ওই ব্যক্তিই বর্তমানে রাস্তার কাজ দেখভাল করছেন।’
টুলুর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এর আগে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে ৫০ কোটিরও বেশি সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই সোনার বাট। এই বিপুল পরিমাণে সোনা ও টাকা উদ্ধারের পরে থেকেই টুলু মণ্ডলের একের পর এক ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সিউড়ির অট্টালিকা থেকে ডেউচার প্রাসাদ, বিশাল বাগানবাড়ি থেকে সুবিশাল পার্কিং লট—সর্বত্রই চলছে তল্লাশি অভিযান।
প্রশ্ন: টুলু মণ্ডলের সংস্থার নাম কী?
‘মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড’।
প্রশ্ন: দুর্গাপুরের রাস্তার কাজের মূল্য কত?
প্রায় ২২ কোটি টাকা।
প্রশ্ন: কতটা রাস্তা তৈরির কথা ছিল?
প্রায় ৩.৬ কিলোমিটার রাস্তা। আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল।
প্রশ্ন: বরাত পাওয়ার পর কতদিন কেটে গিয়েছে?
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বরাত দেওয়ার পর প্রায় ১৫ মাস কেটে গেলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
প্রশ্ন: কেন রাস্তার কাজ বন্ধ?
নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে টুলু পলাতক থাকায় তাঁর সংস্থার কাজ নিয়েও নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: টুলুর সংস্থা কি অন্য কোনও রাস্তার কাজও পেয়েছিল?
হ্যাঁ। কাঁকসার আইমা গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরির কাজও পেয়েছিল সংস্থাটি। সেই কাজও বন্ধ বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন: টুলু পলাতক হলে সংস্থার কাজ দেখছেন কে?
এডিডিএ-র দাবি, টুলু একজনকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছেন। তিনিই বর্তমানে রাস্তার কাজ দেখভাল করছেন।
প্রশ্ন: টুলুর বিরুদ্ধে কী মামলা হয়েছে?
তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁকে খুঁজছে পুলিশ।
প্রশ্ন: টুলুর সঙ্গে টাকা-সোনা উদ্ধারের ঘটনার যোগ কোথায়?
তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ৫০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হওয়ার পর টুলুর একাধিক ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনাই টুলুকে ঘিরে তদন্তকে আরও জোরদার করেছে।