আসবাবপত্র নয়, এবার বিমান-গাড়ি তৈরিতে বাংলার বেত! যুগান্তকারী আবিষ্কারে বিশ্বকে চমকে দিল বাংলা
News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
: প্লাস্টিক ও কৃত্রিম তন্তুর দূষণে যখন সারা বিশ্ব জেরবার, তখন আশার আলো দেখালেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক যৌথ গবেষণায় উঠে এল ‘গুরুবা বেত’-এর নাম। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই বেত থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক তন্তু আগামী দিনে প্লাস্টিক এবং কৃত্রিম তন্তুর এক চমৎকার পরিবেশবান্ধব বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এ ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে তাঁদের এই যুগান্তকারী গবেষণাপত্রটি।
বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রে কার্বন ফাইবার বা গ্লাস ফাইবারের মতো কৃত্রিম উপাদানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কৃত্রিম তন্তু তৈরির জন্য যেমন বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তেমনই এগুলো পরিবেশের পক্ষেও অত্যন্ত ক্ষতিকারক। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্লাস্টিক দূষণের মতো ভয়াবহ সমস্যার নেপথ্যে এই উপাদানগুলির বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এর একটি উপযুক্ত প্রাকৃতিক বিকল্পের খোঁজ করছিলেন। সেই লক্ষ্যেই নিরলস কাজ চালাচ্ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা ও বনবিদ্যা বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক।
এই গবেষকদলে অধ্যাপক মণ্ডল ছাড়াও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রনি সাহা এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী দেবেন্দ্র সিং ও রাহুল দেববর্মণ। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলা থেকে তাঁরা মূলত এই গুরুবা গাছ বা বেত সংগ্রহ করেন। পাম গোত্রের এই উদ্ভিদটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। এতদিন সাধারণত আসবাবপত্র বা হস্তশিল্পের কাজেই এটি ব্যবহৃত হত। এর মধ্যে যে এমন উন্নতমানের প্রাকৃতিক তন্তু লুকিয়ে আছে, তা এতকাল একপ্রকার অজানাই ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে।
অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডলের মতে, দূষণ রুখতে প্রাকৃতিক ও পুনর্নবীকরণযোগ্য তন্তুর ব্যবহার বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। এই তন্তু থেকে তৈরি ‘পলিমার কম্পোজিট’ ইতিমধ্যেই বিমান, মোটরগাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্যাকেজিং শিল্পের মতো আধুনিক ক্ষেত্রে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধরনের প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদাও বাড়ছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞানী দেবেন্দ্র সিংয়ের কথায়, কৃত্রিম তন্তুর বিকল্প হিসেবে গুরুবা বেতের ব্যবহার আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে সবুজ প্রযুক্তি এবং সুস্থায়ী শিল্পোন্নয়নের নতুন দিশা দেখাতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই আবিষ্কার আগামী দিনে মানবসমাজের জন্য সত্যিই খুব ভাল ফল বয়ে আনবে।