ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়
সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা- এখন পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এই সম্পদ। মাথায় ঝুড়ি নিয়ে লরিতে পাথর বোঝাই করা টুলু মণ্ডল ফুলে ফেঁপে হয়েছে কয়েকশো কোটি টাকার মালিক। ইনিই ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ একাংশের। সেই বিয়ের ভিডিয়ো ভাইরালও হয়েছিল।
বীরভূমে কান পাতলেই শোনা যায় টুলুর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের সম্পর্কের কথা। টুলু মন্ডলের ফেসবুক প্রোফাইলে এখনও অনুব্রত মণ্ডলের ছবি জ্বলজ্বল করছে। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘গত সরকার থাকাকালীন অনুব্রত মণ্ডল এবং তার পরে কাজল শেখের তত্ত্বাবধানে টুলু মণ্ডলের এই ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল। আর এই টাকা বোলপুর হয়ে, পরে নানুর হয়ে কালীঘাট আর শান্তিনিকেতনে গিয়েছিল। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের লোক ধরা পড়বে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে।’
অন্যদিকে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, ‘অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন যে উনি যখন জেলা সভাপতি ছিলেন তখন সাড়ে তিন কোটি টাকা করে জমা দিতেন কিন্তু আমি রেকর্ডে তো সেরকম কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তাহলে এই টাকাগুলোই কি সেই টাকা?’
কিন্তু টুলু মণ্ডলের উত্থান এবং টুলুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা উঠতেই বেজায় চটলেন অনুব্রত মণ্ডল। এই সময় অনলাইন অনুব্রত মণ্ডলকে প্রশ্ন করেছিল, শাসক দলের নেতারা বলছে আপনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতা ছিল। কী বলবেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বিজেপি বলছে না। এই কথা বলছে আপনাদের মত সাংবাদিকরা। টুলু মণ্ডল বীরভূমের ছেলে। তার সঙ্গে গোটা বীরভূম জেলার মানুষের ঘনিষ্ঠতা। টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে সব নেতারা, সাংবাদিকরা গিয়েছিল আমি কিন্তু যাইনি। আমি তখন জেলা প্রেসিডেন্ট ছিলাম আমার কাছে যে কেউ আসতে পারে।’ এরপরেই তিনি কার্যত বেজায় চটে যান, মানহানির মামলা করবেন বলেও জানান। তবে তিনি এও জানান, এই তল্লাশি করে ও টাকা উদ্ধার করে প্রশাসন ভালো কাজ করছে।
যদিও অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কে কার বিয়েতে খেতে গেল না গেল, তা দিয়ে তো সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায় না। সবাই জানে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের কী সম্পর্ক ছিল।’