বিশ্ববাজারে গড়ে উঠবে বাংলার চায়ের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং, শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে আশাবাদী মন্ত্রীরা
প্রতিদিন | ৩১ জুলাই ২০২৬
উত্তরবঙ্গের শিল্পের বিকাশ নিয়ে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। চা-কে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ জুড়ে শিল্পের বিকাশে জোর দিতে চায় রাজ্য সরকার। পাহাড় বললেই যেন ল্যান্ড অফ টি বোঝায়, সেটাই করা হবে। বিশ্ববাজারে গড়ে তোলা হবে নিজস্ব ‘ব্র্যান্ডিং’। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে উত্তরবঙ্গের শিল্প বিকাশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের উপস্থিতিতে প্রায় ৪০ জন শিল্পপতির সঙ্গে বৈঠক করেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
চা শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে উত্তরবঙ্গজুড়ে লগ্নি টানতে চায় রাজ্য। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ও নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বিনিয়োগের একটা বাতাবরণ তৈরি করার জন্যই এই বৈঠক। শংকরে বক্তব্য, “অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক জায়গায় গিয়ে শিল্পের বিকাশ করাই লক্ষ্য।”
যে সমস্ত জমি শিল্প স্থাপনের জন্য সরকারের থেকে নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে শিল্প হয়নি, তা ফেরত নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছে নবান্ন। এ দিন শংকর জানান, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে জমি পাওয়া অনেক সহজ। তাই সেখানে শিল্পস্থাপনে বাড়তি সুবিধা রয়েছে। শংকর জানিয়েছেন, শিল্পপতিরা আবেদন করেছেন যাতে উত্তরবঙ্গের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। শিল্প নীতিতে যেন উত্তরবঙ্গের কথা একটু ভাবা হয়। জিএসটির ক্ষেত্রে একটা সেট আপ তৈরি হয়। এমএসএমই-র ক্ষেত্র বিশেষ জায়গা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন লাইসেন্স যেটা কলকাতা থেকে করতে হয়, সেটা যদি জেলাভিত্তিক দেওয়া যায়। এমন একাধিক প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।
এ দিনের চা শিল্প নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। শংকরের কথায়, ‘‘ওয়াইন যেমন ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রদেশ আলাদাভাবে ব্র্যান্ডিং করেছে। দার্জিলিং বাদ দিয়ে আমরা কি সেরকমভাবে চা কে ব্র্যান্ডিং করেছি? ডুয়ার্স, দার্জিলিং-এর চায়ের আলাদা টেস্ট। একদিকে চা শিল্পকে বুস্ট আপ করা এবং টি ট্যুরিজমকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাতে তার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের সুবিধা দেওয়া যায়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি নেওয়া হবে। চা নিয়ে তৈরি হবে অ্যাকশন প্ল্যান।’’ একইসঙ্গে তিনি জানান, হাই এন্ড টি ট্যুরিজমের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, একাধিক বড় বড় হোটেল হতে চলেছে উত্তরবঙ্গে। এ দিন তা নিয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে। ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশের বদলে ১৫ শতাংশ ফ্রি হোল্ড ল্যান্ড নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা এতদিন ধরে এ রাজ্যের শিল্পপতিরা পাননি। এবার থেকে সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে তাঁরা পান, তা দেখবে রাজ্য সরকার।