রাস্তার পাশে বিশাল দরজা দিয়ে ঢুকেই সাজানো লন। সেখানে বিদেশি ও বাহারি গাছ। সারিবদ্ধ ছোট ছোট ঝাউগাছ। ওই বাগানের যে পরিচর্যার কোনও অভাব নেই, তা দেখেই বোঝা যায়। সেখানেই দাঁড়িয়ে চারতলা অট্টালিকা। সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর রাজপ্রাসাদ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় তদন্তকারীদের।
‘পাথরসম্রাট’ টুলুর বাড়ি যেকোনও বিলাসবহুল রিসর্টকে হার মানায়। কী নেই সেখানে। ভিতরে রয়েছে একতলা থেকে অপরতলায় যাতায়াতের জন্য লিফট। এছাড়া সেখানে রয়েছে জিম। দামি শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি রয়েছে সেখানে। অবসর সময়ে বসে সিনেমা দেখার জন্য রয়েছে একটি আস্ত থিয়েটার হাউস। এছাড়া সুইমিং পুল তো রয়েছেই। মেঝে সম্পূর্ণ মার্বেলের। বাহারি আলোয় মোড়া গোটা বাড়ি। টুলু মণ্ডল বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তা দরজা, জানলা দেখেই স্পষ্ট। টুলুর বাড়িতে রয়েছে দু’টি গ্যারেজ। সেখানে রয়েছে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি। সিউড়ির পৈতৃক বাড়ি সোঁৎশালে। এছাড়া মহম্মদবাজারে বিশাল ট্রাক ও লরি পার্কিংও রয়েছে টুলুর।
বলে রাখা ভালো, বৃহস্পতিবার দুপুরে পাথর এবং বালি ব্যবসার ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের একাধিক ঘাঁটিতে হানা দেয় পুলিশ। মিনার মণ্ডলের টাকার উৎস খুঁজতে টুলু মণ্ডলের সিউড়ির সুভাষপল্লির বাড়িতে জেলা পুলিশের একটি দল হানা দেয়। ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য, সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই মুহূর্তে সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে খবর। ওই বাড়িতে আরও সোনা রয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সে কারণে স্বর্ণকারও ঢুকেছেন। তবে এখনও সোনা কিংবা নগদ টাকা – কিছুই পাননি তদন্তকারীরা।