• প্রাসাদ আছে, তকমাও আছে, নেই শুধু ছাত্রীরা! গাইন গার্ডেনে ফের নারী শিক্ষালয় চালুর দাবিতে তোলপাড়
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • : হেরিটেজের মর্যাদা বজায় রেখেই গাইন গার্ডেনে ফিরুক রাষ্ট্রীয় নারী শিক্ষালয়, দাবি এলাকাবাসীর। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের ধান্যকুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঐতিহ্যবাহী গাইন গার্ডেনকে ঘিরে আবারও জোরালো হল নারী শিক্ষা ফিরিয়ে আনার দাবি। গাইন পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হেরিটেজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই এই ঐতিহাসিক বাগানবাড়িতে পুনরায় চালু করা হোক রাষ্ট্রীয় নারী শিক্ষালয়।

    জানা যায়, প্রায় ৩৩ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত গাইন গার্ডেন একসময় এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৩ সালে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যেই গাইন পরিবারের মহেন্দ্র গাইন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকায় এই সম্পত্তি বিক্রি করেন। পরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে জমিটি অধিগ্রহণ করা হয় এবং তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এখানে রাষ্ট্রীয় নারী শিক্ষালয় গড়ে তোলা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বহু ছাত্রী এই আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে ধান্যকুড়িয়া শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার গাইন গার্ডেনকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেয়। এরপর সংস্কারের উদ্দেশ্যে ওই বছরের শেষদিকে শিক্ষালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা পানিহাটি ও শিয়ালদহের সরকারি হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলেও, ধান্যকুড়িয়ার গাইন গার্ডেনে এখনও শিক্ষালয় চালু হয়নি।

    সমাজকর্মী  তথা এলাকাবাসী ছন্দ বাইনদাবি জানিয়ে বলেন, ধান্যকুড়িয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিক্ষা— এই তিনের মিলিত পরিচয় বহন করে গাইন গার্ডেন। তাই এই স্থানের প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে হেরিটেজ সংরক্ষণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নারী শিক্ষালয়ও পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এলাকাবাসীর দাবি, বহু বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই বাগানবাড়িকে শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হোক। সেই লক্ষ্যে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)