• বাস ড্রাইভারের ঘরে ভর্তি দুবাই-সুইজারল্যান্ডের সোনা!
    আজকাল | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমে পাথর ব্যবসায়ী তথা অনুব্রত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহম্মদবাজার থানার পুলিশের দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা। টাকা ও সোনার আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।

    ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে আদালত ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনার উৎস কী, কার নির্দেশে সেগুলি বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মিনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতভর চলে উদ্ধার হওয়া টাকা গোনার কাজ। প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা গোনার পর সেগুলি সিল করে রাখা হয়। তবে রাতেই নিরাপত্তার অভাবের আশঙ্কায় টাকা ও সোনা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে মিনার মণ্ডলের বাড়িতেই সারারাত অপেক্ষা করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে DSP ট্রাফিক ও অ্যাডিশনাল SP-র উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

    সকালে মিনারের বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ফুট লম্বা এবং ২ ফুট চওড়া ছ’টি বড় ট্রাঙ্ক বের করে আনতে দেখা যায়। এরপর রীতিমতো কনভয় করে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সেগুলি মহম্মদবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত করা বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা আপাতত স্থানীয় কোনও ব্যাঙ্কে রাখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনাও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, ১০০ গ্রাম ওজনের ১০টি সোনার বিস্কুট এবং আরও ১৪টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সোনা সুইজারল্যান্ড ও দুবাই থেকে আনা হয়েছিল। বিদেশ থেকে আসা সোনার তলায় এমনভাবে টেপ লাগানো হয়েছিল বলেও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, যাতে তা সহজে নজরে না আসে।

    পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, মিনার মণ্ডলের বাড়ির দুটি আলমারি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। জিজ্ঞাসাবাদে মিনার জানিয়েছেন, টাকা বাড়িতে রাখার দায়িত্ব তাঁর থাকলেও আলমারি খোলার অধিকার তাঁর ছিল না। তবে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকা ও সোনা তাঁর আত্মীয় টুলু মণ্ডলের।

    এই বক্তব্যের পর তদন্তের মূল নজর এখন টুলু মণ্ডলের দিকে। আদালতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী জানান, গত ২৩ জুলাই শেষবার টুলু মণ্ডলের অবস্থান ট্র্যাক করা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পুলিশের হাতে নেই। তবে তিনি দেশের বাইরে চলে গিয়েছেন কি না, নাকি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে রয়েছেন—সে বিষয়ে আদালতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি সরকারি আইনজীবী।

    এর পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের বাগানবাড়িতেও পুলিশি তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ওই বাড়িতে থাকা বিভিন্ন নথি ও অন্যান্য সামগ্রী। কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি সেখানে ছিল কি না, সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং ওই বাগানবাড়ি থেকেই কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালিত হত কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

    বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা উদ্ধারের পর প্রশ্ন উঠছে, এত সম্পত্তির উৎস কী? কার অর্থ এবং কার নির্দেশেই বা সেগুলি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে রাখা হয়েছিল? টাকার সঙ্গে কোনও অবৈধ কারবারের যোগ রয়েছে কি না, বিদেশ থেকে সোনা কীভাবে এল এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত—সবকিছুই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

    এদিকে টুলু মণ্ডলের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে তল্লাশি। মিনার মণ্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে টুলু মণ্ডলের নাগাল পাওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার প্রকৃত মালিকানা এবং উৎসের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বীরভূমের এই বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন।
  • Link to this news (আজকাল)