NEET-UG প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার। যন্তর মন্তরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের জন্য স্বস্তির ঘোষণা। সরকার জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও প্রতিকূল আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। ইতিমধ্যে যাঁদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, সেই ঘটনাগুলিও পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।
দিল্লি সরকারের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর নতুন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যাঁদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদের মামলাগুলিও পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দিল্লি সরকার স্পষ্ট করেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড (criminal antecedents) রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর হবে না। এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলবে। অর্থাৎ সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্র-যুবদের জন্য প্রযোজ্য।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের পর দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছিল। বহু আন্দোলনকারীকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়। এ বার সেই সমস্ত গ্রেপ্তার এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও নিরীহ ছাত্র বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী যাতে অযথা আইনি জটিলতায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে NEET-UG প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার নেয়। ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এর পরে একাধিক FIR দায়ের হয় এবং বহু ছাত্র-যুবকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং আন্দোলনকারীদের তরফে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
NEET-UG প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে 'চলো সংসদ' কর্মসূচির ডাক দেয় Cockroach Janta Party (CJP)। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, এমনকী পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালত RAF-এর অস্ত্র ব্যবহারের রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।
আন্দোলনের নেতৃত্বের দাবি ছিল, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে সরকার পুনরায় স্পষ্ট করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে NEET আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু ছাত্র-যুব স্বস্তি পেলেও, অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া আগের মতোই চলবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।
দিল্লি সরকার জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের NEET আন্দোলনে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে আর নতুন করে কোনও প্রতিকূল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আগের গ্রেপ্তার ও আটক সংক্রান্ত মামলাও পর্যালোচনা করা হবে।
যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড (criminal antecedents) রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।
২০ জুলাইয়ের যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছিল।
সরকারের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীরা যাতে অযথা আইনি জটিলতায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে Cockroach Janta Party (CJP)-এর ডাকা 'চলো সংসদ' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যন্তর মন্তরের একই বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরে সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট RAF-এর অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।